রাবিতে সাংবাদিক হামলা, অস্ত্র দেখেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের অভিযোগ থাকলেও তখন তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে ছাত্রদলের সহসভাপতি হাসিবুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা অবস্থান করছিলেন। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
.png)
এ সময় হাসিবুল ইসলাম হকিস্টিক হাতে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানান দেন বলে জানা গেছে। তবে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থানের অভিযোগের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। এ ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলার আগেই ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থানের সময় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরবর্তী হামলা এড়ানো যেত কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।
হামলায় গুরুতর আহত চার সাংবাদিক হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার পর সাংবাদিকরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত হামলার ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফেরার পর তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করার আশ্বাসের পর তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি থেকে সরে যান।