সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে ক্লাস বর্জন-মানববন্ধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিলের দাবিতে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তিন দফা দাবি জানান।
.png)
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ছাত্রত্ব বাতিল, অর্জিত সনদ বাতিল এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোববার রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হামলায় গুরুতর আহত চার সাংবাদিক হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আহত আরও কয়েকজন সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি। আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যবস্থা তদারকি করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, গলা চেপে ধরা এবং মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
অধ্যাপক আল মামুন বলেন, জুলাইয়ের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা তাঁরা আশা করেননি। সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবাদিকতায় একদিকে ফ্যাসিবাদী সরকারকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে অনেক সাংবাদিক সেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মাঠে নেমেছেন। নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছেন।
সঠিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে সমাজ আবারও অন্ধকারের দিকে ফিরে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক আল মামুন।