দুই বছর আগে ফজল মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ফাতেমার। বিয়ের পর ফাতেমা তার প্রথম পক্ষের দুই মেয়েসহ ফজল মিয়ার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগরে ভাড়া থাকতেন। ফাতেমার প্রথম পক্ষের মেয়ে মিতুকে (১৩) প্রায়ই যৌন হয়রানি করতেন ফজল মিয়া।
এতে নিষেধ করলেও কোনো কর্ণপাত করেননি ফজল মিয়া। একপর্যায়ে ফাতেমার প্রথম স্বামী গাজী রহমানের সহায়তায় মা-মেয়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করেন।
.png)
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাফর হোসেন সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগরে একটি বাসার দুইতলা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ফজল মিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরই পুলিশ ফজল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমাকে খুঁজতে শুরু করে। পরে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শেরপুরের ঝিনাইগাথি থানা এলাকা থেকে ফাতেমাকে গ্রেফতার করা হয়।
জাফর হোসেন বলেন, ফাতেমা ভিকটিম ফজল মিয়ার পঞ্চম স্ত্রী ও ফজল মিয়া ফাতেমা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামী। ভিকটিমের বাড়ি রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার ঠাকুরদেশ গ্রামে। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে ভিক্ষা করতেন। গ্রেফতার ফাতেমার প্রথম স্বামী গাজী রহমান ও ভিকটিম ফজল মিয়া একসঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় ভিক্ষা করতেন। সেই সূত্রে ফাতেমার সঙ্গে ভিকটিমের পরিচয় হয় এবং তারা প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ফাতেমা খাতুন তার প্রথম পক্ষের দুই মেয়েসহ ফজল মিয়ার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরে ফেরদৌসী ভিলায় ভাড়া থাকতেন।
তিনি বলেন, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় ফাতেমা ও তার বড় মেয়ে বাড়ির বাইরে গেলে ফজল মিয়া ফাতেমার ছোট মেয়ে মিতুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য জোর-জবরদস্তি করতে থাকেন। ঐ সময় ফাতেমা বাড়ি ফিরে ধস্তাধস্তির বিষয়টি দেখতে পান এবং ফজল মিয়াকে বাধা দেন। এতে ফজল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা ও তার মেয়েকে মারধর করেন ও মিতুকে ধর্ষণের হুমকি দেন। ফাতেমা খাতুন মামলা করার কথা বললে, ফজল মিয়া বলে যে, তিনি প্রতিবন্ধী, ধর্ষণের বিষয়ে কোর্ট ও পুলিশ তার কিছুই করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১২টায় ফাতেমা খাতুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে চার থেকে পাঁচটা ঘুমের বড়ি মিশিয়ে ফজল মিয়াকে খেতে দেন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ফাতেমা তার প্রথম স্বামী গাজী রহমানকে ফোন করে ডেকে আনেন।
এরপর ফাতেমা খাতুন ঘুমন্ত ফজল মিয়ার হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। গাজী রহমান ভিকটিমের বুক চেপে ধরেন এবং ফাতেমা ও মেয়ে মিতু ভিকটিমের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে ফাতেমা ব্লেড দিয়ে ভিকটিমের গোপনাঙ্গ কেটে জানালা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর তারা পালিয়ে যান।