ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]
৩ লাখে অস্ত্র, ৫ দিনে লাইসেন্স

ক্রেতা আনে ৪ সহকারী, অস্ত্র-লাইসেন্স দেয় পলাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:২৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ক্রেতা আনে ৪ সহকারী, অস্ত্র-লাইসেন্স দেয় পলাশ
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পাস মো. পলাশ শেখ জীবিকার তাগিদে ২০১৩ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় আসে। এরপর একটি স্বনামধন্য সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেয়। এরপর ২০১৫ সালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভুয়া লাইসেন্সকৃত একটি অবৈধ অস্ত্র কিনে একটি বেসরকারি ব্যাংকে অধিক বেতনে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি শুরু করে। পরে সে নিজেই ৪-৫ জনের একটি দল গঠন করে অস্ত্র চোরাচালান ও বিক্রি শুরু করে।

রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান ও ভুয়া লাইসেন্স তৈরি চক্রের হোতা মো. পলাশ শেখসহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। চক্রের বাকি সদস্যরা হলেন- মো. মনোয়ার হোসেন, রশিদুল ইসলাম, নাজীম মোল্লা, মারুফ হোসেন ও মো. নাইমুল ইসলাম। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার গান, ৭টি একনালা বন্দুক, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৮ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ওয়ান শুটারের গুলি ২ রাউন্ড, একনলা বন্দুকের গুলি ৬৭ রাউন্ড, ০.২২ বোর রাইফেলের গুলি ৪০ রাউন্ড, ১১টি জাল লাইসেন্স ও সরকারি কর্মকর্তার নামে ১৯টি বিভিন্ন সিল উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

Advertisement

তিনি বলেন, চক্রটি অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান করত। পরবর্তীতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিনব কৌশলে ভুয়া ও জাল লাইসেন্স তৈরির মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রির জন্য বেসরকারি বিভিন্ন স্বনামধন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাকরি প্রদানে আকৃষ্ট করে আগ্রহীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতো। চক্রটির হোতা পলাশ। চক্রের সদস্য সংখ্যা ৪-৫ জন।

এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত মনোয়ার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি শুরু করে। চাকরির সুবাদে পলাশের সঙ্গে সু-সর্ম্পক গড়ে উঠে এবং পলাশের সহযোগিতায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে একটি ভুয়া লাইসেন্সকৃত অবৈধ একনলা বন্দুক সংগ্রহ করে একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অধিক বেতনে চাকরি শুরু করে। পরবর্তীতে পলাশ তাকে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার জগতে প্রবেশ করায়। পলাশের নির্দেশনায় মনোয়ার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করতো ও ভুয়া লাইসেন্স তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অস্ত্র বিক্রি করতো।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত রশিদুল দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ২০১৯ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় আসে। চাকরির সুবাদে পলাশের সঙ্গে তার সু-সর্ম্পক গড়ে উঠে এবং দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সে ভুয়া লাইসেন্সকৃত অবৈধ অস্ত্র কিনে করে বেশি বেতনে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতো। সে বিভিন্ন সময়ে আগ্রহী চাকরি প্রার্থীদের পলাশের কাছে পাঠাতো।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত নাইমুল ইসলাম এইচএসসি পাস। সে ২০২০ সালে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় আসে। পরবর্তীতে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে পলাশের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পলাশের লোভনীয় বেতনের প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্র কিনে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেশি বেতনে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতো। সে বিভিন্ন সময়ে আগ্রহী চাকরি প্রার্থীদের পলাশের কাছে পাঠাতো।

গ্রেফতারকৃত নাজিম মোল্লা অষ্টম শ্রেণি পযর্ন্ত পড়াশোনা করে। ২০২২ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় এসে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে সে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া লাইসেন্সকৃত অবৈধ অস্ত্র কিনে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতো। বিভিন্ন আগ্রহী চাকরি প্রার্থীদের সে পলাশের কাছে পাঠাতো।

গ্রেফতারকৃত মারুফ এইচএসসি পাস করে ২০২৩ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় আসে। পরবর্তীতে সেপলাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্র কিনে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি শুরু করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!