ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাটের বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
প্রকাশিত: ১৭:১৬, ২৬ আগস্ট ২০২০
পাটের বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা
পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন কৃষকরা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

বেশ কয়েক বছর পর পাটের বাম্পার ফলন ও আশানুরূপ দাম পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষকরা। এ বছর জীবননগর বাজারে পাটের চাহিদা ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

পাট পচাতে পানিরও নেই কোনো সমস্যা ফলে চাষিরা খুব সহজেই জমি থেকে পাট কেটে তা বাজার জাতের সুযোগ পাচ্ছেন। 

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, উপজেলায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউপিতে এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে এক হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো দামের আশায় চাষিরা অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন।

Advertisement

আরো পড়ুন >> ‘পরেরবার এসে জীবন নিয়ে যাব’

জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের চাষি নুর হোসেন বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট (মান অনুযায়ী) ২১শ’ থেকে ২২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাটের এ দামে আমি খুশি। বিগত কয়েক বছর পাটের এমন দাম পাওয়া যায়নি।

একই গ্রামের চাষি রমজান বলেন, এবারে পাটের ফলন ও দাম দুটিই মোটামুটি ভালো। আমরা দামে খুশি। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় চাষিরা খুব বেশি লাভের মুখ দেখছেন না। তবে পাটখড়ির বেশি চাহিদা থাকায় তা বিক্রি করে ভালোই টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার আলীপুর গ্রামের হাকিম আলী বলেন, চলতি বছর পাট বীজ থেকে শুরু করে সারা মৌসুম আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সারা বছর বৃষ্টিপাত থাকায় বাড়তি সেচ খরচ হয়নি। অন্যদিকে এবার নদ-নদী, খাল-বিলে প্রচুর পানি থাকায় পাট পচাতেও বেগ পেতে হয়নি। 

পাটখড়ি (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের সরকার বীজ সারসহ অন্য প্রণোদনা দিয়েছে। বাজারে অনেক দিন পর পাটের দামও ভালো।

জীবননগর বাজারের পাট ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে পাট কেনা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বেসরকারি মিলগুলো নগদ টাকায় পাট কেনা শুরু করেছে এবং দামও ভালো দিচ্ছে। তাই আমরাও ভালো দামে চাষিদের থেকে পাট সংগ্রহ করছি।

আরো পড়ুন >> সংসারের হাল ধরতে ডিম বিক্রি করছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সারমিন আক্তার বলেন, এ বছর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের উৎপাদন ভালো হচ্ছে এবং সরকার প্রণোদনা দেয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। ভালো দামের আশায় চাষিরা এবার অনেক বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তবে দাম সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!