বিমর্ষ চেহারার প্রদীপ কুমার দাশ ৮ দিন ধরে পরে আছেন হালকা বেগুনী রঙের হাফ-হাতা শার্ট ও সাদা রঙের প্যান্ট। শার্টের উপরে কালো রঙের বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট। এ পোশাকেই প্রদীপকে থাকতে হবে আরো তিনদিন।
সোমবার সাতদিনের রিমান্ড শেষে ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে আদালতে তোলে র্যাব। এ সময় তাদের সেই কাপড়ে দেখা যায়, যে কাপড় তারা ৮ দিন আগে পরেছিলেন। এতে আদালতে উপস্থিত লোকজনের মাঝে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম নেয়।
.png)
আরো পড়ুন: বেরিয়ে আসছে প্রদীপের সম্পদের পাহাড়

যিনি নিজের রুমকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে মনের তৃপ্তি মেটাতেন। সকাল-বিকেল ব্যায়াম করে তরতাজা ফল, ডিম, দেশি মুরগি, ফ্রেশ মাছ ছাড়া নাস্তা বা খাবার মুখে নিতেন না। তিনি আজ বন্দি চার দেয়ালের মাঝে, কী খাচ্ছেন নিজেও জানেন না- এমন মন্তব্য তাদের যারা প্রদীপ কুমার দাশকে প্রতিনিয়ত কাছ থেকে দেখেছেন।
আরো পড়ুন: গৃহিণী হয়েও প্রদীপের স্ত্রী এত টাকার মালিক কীভাবে?
ওসি প্রদীপের সঙ্গে উঠতেন-বসতেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী। তারা জানান, প্রতিদিন বিকেলে আস্থাভাজন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বের হতেন ওসি প্রদীপ। নাফ নদীর ওপর নির্মিত ট্রানজিট জেটিতে দুই পাশে শটগান নিয়ে এএসআই রামধর ও মিঠুন ভৌমিককে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। এরপর ইচ্ছামতো ব্যায়াম করতেন। এ সময় মানুষ তো দূরের কথা, কুকুর পর্যন্ত ঢুকতে পারত না জেটিতে। ভুল করে কেউ ঢুকলে শাস্তি হতো কঠিন।
প্রদীপের নির্যাতন ও বাণিজ্যের প্রধান সহযোগী হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর, এএসআই রামধর ও মিঠুন ভৌমিকসহ কয়েকজন। যারা প্রদীপের হুকুমে নির্যাতন-জুলুম চালিয়েছে নিরীহদের ওপর। নির্যাতিতদের আশা, তাদেরও দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
আরো পড়ুন: গা ঢাকা দিয়েছেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকী