ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, দুই নিরাপত্তাকর্মী বরখাস্ত

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, দুই নিরাপত্তাকর্মী বরখাস্ত
এমসি কলেজ (ফাইল ছবি)

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রবাসে স্বামী‌কে আটকে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে শেষের দুইজন হোস্টেল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন।

আরো পড়ুন: মসজিদের টাকা আত্মসাৎ করলেন রাজাকার পুত্র

Advertisement

অধ্যক্ষ আরো জানান, সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য এদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনায় ওই ছাত্রাবাসের একজন নিরাপত্তারক্ষী ও প্রধান ফটকের একজন নিরাপত্তারক্ষীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তারা হলেন- রাসেল মিয়া ও সবুজ আহমদ। তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান মাসুমের ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। 

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সালেহ আহমদ  বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে কেবল মাহফুজুর রহমান মাসুম আমাদের নিয়মিত ছাত্র ও ছাত্রাবাসে থাকে। তাই তার ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ওসি কাইয়ুম চৌধুরী। অভিযোগকারীকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে আসেন এক গৃহবধূ। স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দু-তিনজনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় মামলা করেন নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, রবিউল হাসান, তারিকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্কর। এর মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।  

গণধর্ষণের ঘটনার পর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!