একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গভীর রাতে ঘরের মধ্যে ঢুকে মা-বাবা ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শাহিনুরের শাশুড়ি উপজেলার ওফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজির স্ত্রী ময়না খাতুন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) হারান পাল বলেন, মামলার বাদী হয়েছেন নিহত শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন। মামলাটি তদন্ত করবে সিআইডি।
এর আগে বুধবার গভীর রাতে কলারোয়া উপজেলায় খলসি গ্রামে ঘরে ঢুকে শাহিনুর রহমান-সাবিনা খাতুন দম্পতি ও তাদের ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি এবং মেয়ে তাসনিমকে গলা কেটে হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় মা সাবিনা খাতুন ও বাবা শাহিনুর রহমানের পাশে ঘুমিয়ে ছিল তাদের ছোট মেয়ে মারিয়া খাতুন।
.png)
নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, তার বড় ভাইসহ তিন ছেলে-মেয়ে থাকেন। বুধবার রাতে মা ছিলেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। আর তিনি নিজে (রায়হানুল) ছিলেন পাশের বাড়িতে, তার ঘরে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বড় ভাইয়ের ঘর থেকে তার মেয়ে মারিয়ার কান্নার শব্দ শুনতে পান। অনেকক্ষণ ধরে শিশুটি কান্না করতে থাকায় তিনি ঘরের সামনে গিয়ে ভাইকে ডাকতে থাকেন। কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বারান্দার গেটের সামনে দিয়ে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দেখতে পান ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে গেটের তালা ভেঙে ঘরের দরজা খুলে দেখেন ভেতরে ভাই-ভাবির নিথর দেহ পড়ে আছে। অন্য ঘরের দরজা খুলে ভাইপো সিয়াম ও ভাইজি তাসনিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পাঁচ মাসের শিশু মারিয়া তখন কাঁদছিল।
রায়হানুল আরো জানান, তাদের সঙ্গে জমা-জমি নিয়ে পাশের কিছু লোকের বিরোধ রয়েছে। কিন্তু কারা এ ঘটনা ঘটালো তা তিনি জানেন না।
কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) হারান পাল জানান, নিজ ঘরের মধ্যে শাহিনুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিনুরের পা বাঁধা ছিল এবং তাদের চিলেকোঠার দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে- ছাদের চিলেকোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।