নিহত মনিকা রানী পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃত্তিপুর গ্রামের পঞ্চানন মহন্তের মেয়ে।
পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেলআমলা গ্রামের হরেন চন্দ্র মহন্তের ছেলে রাজমিস্ত্রি অনুকূল চন্দ্র মহন্তের সঙ্গে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃত্তিপুর গ্রামের পঞ্চানন মহন্তের মেয়ে মনিকা রানীর বিয়ে হয়। বিয়েতে দাবিকৃত যৌতুক পরিশোধ সত্ত্বেও প্রায়ই স্বামী তার স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ দিতেন ও মারধর করতেন।
.png)
মেয়ের সুখের কথা ভেবে গরিব দিনমজুর মনিকা রানীর বাবা ধার-দেনা করে মেয়ের জামাইকে কয়েক দফা টাকা-পয়সাও দিয়েছেন। কিন্তু অনুকূল চন্দ্র মহন্ত নেশা ও জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয় নিয়ে এরপূর্বে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেন প্রতিবেশীরা।
সংসারের আর্থিক সংকটে বাধ্য হয়ে কিছুদিন আগে মনিকা রানী স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্বামীকে এনে দেন। কিন্তু ওই টাকা তার নেশাগ্রস্ত স্বামী অনুকূল চন্দ্র খরচ করে ফেলায় স্ত্রী মনিকা রানী সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন। ফলে ওই এনজিও কর্মীদের কাছে অপমানিত হওয়ায় টাকার জন্য স্বামীকে চাপ দেন স্ত্রী মনিকা।
ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নতুন করে কলহ বাধে। এর জের ধরে অনুকূল তার স্ত্রী মনিকা রানীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে চৌকির নিচে তার লাশ রেখে ৫ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে অপূর্বকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
জয়পুরহাট থানার ওসি আলমগীর জাহান জানান, এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে নিহত গৃহবধূ মনিকা রানীর মা ছবি রানী বাদী হয়ে মেয়ে হত্যার অভিযোগে মেয়ের জামাই অনুকূল চন্দ্রের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।