ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মহামূল্যবান ঔষধি গাছ, নির্মূল করে জটিল রোগ

বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৯ মে ২০২১
মহামূল্যবান ঔষধি গাছ, নির্মূল করে জটিল রোগ
জীবন রক্ষাকারী মহামূল্যবান ঔষধি গুণসম্পন্ন পীতরাজ গাছ

দেশের আনাচে কানাচে ঝোপে ঝাড়ে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠে মানুষের জীবন রক্ষাকারী মহামূল্যবান ঔষধি গুণসম্পন্ন পীতরাজ গাছ। 

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি বেলাব উপজেলার বিভিন্ন জঙ্গল, রাস্তার পাশে, জমির আইলে, পুকুর পাড়ে চোখে পড়ে গাছগুলো। এ গাছের ছাল বা মূলের রস থেকে তৈরি করা ঔষধ  লিভারের রোগ, কৃমি , পাইলস, ক্ষুধামান্দ্য, প্লীহা, যকৃৎ, উদর, অষ্ঠিলা, গ্রহণী, কামলা, রক্তবিকারজনিত রোগ,  মোটা হওয়া, নিতম্ব অস্বাভাবিক ভারী হওয়া, মেহরোগ ও শোথ প্রশমনে এর ছাল ও মূল থেকে তৈরি বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ঔষধ সেবন একটি কার্যকর প্রতিষেধক বলে প্রমাণিত। 

ভেষজ গুণে গুণান্বিত গাছটির অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। পীতরাজ, বদ্দিরাজ, রয়না, রনা, রইন্না, রাতা, তিতকারাজ, পিত্তি, বাজর, রহিতক, তিক্তরাজ, তিত্রা ইত্যাদি। 

Advertisement

পীতরাজের ছাল বা মূলের রস থেকে তৈরি ওষুধ রক্তপ্রদর বন্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের প্রায় প্রত্যেক এলাকায়ই কমবেশি এ গাছ থাকলেও সাধারণত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট ও কিশোরগঞ্জে বেশি দেখা যায়। 

এই বদ্দিরাজ বা পীতরাজের বীজ থেকে তেল তৈরি করা হয়। এই তেল বাতের ব্যথা সহ অন্যান্য ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত রক্তপ্রদরে শুরুতেই রয়নামূলের ছাল খাওয়ানো গেলে সহজেই এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। রয়না মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছ। গড়ে ১৫- ২০ মিটার উঁচু হতে পারে, ডালপালা ছাতার মতো প্রসারিত থাকে । পাতা ৫০-১৩০ সেমি পর্যন্ত লম্বা। ফুল ছোট, লালচে বর্ণের। ফল গোলাকার, বহিরাবরণের ভেতর থাকে। 

ফেব্রুয়ারিতে ফুল ফোটে। বীজ থেকে চারা। এশিয়ার দেশসমূহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এবং শ্রীলংকায় এ গাছ আছে। তবে এত ঔষধি গুণসম্পন্ন এ গাছগুলোর ভেষজ গুণ মানুষের কাচে অজ্ঞাত থাকায় গ্রামাঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভেবে নির্বিচারে কেটে ফেলা হয় গাছগুলো। বিনামূল্যে বহুমূল্যবান এ ঔষধি ও ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ গাছগুলো সংরক্ষণ করা ও এদের গুণাগুণ সম্পর্কিত প্রচার প্রচারণা না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!