কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ইউনুছ নামে ওই যাত্রীকে পাচার করছিল কিডনি সংগ্রহের জন্য। তবে এক বছরের চুক্তি হয় ভারতে কাজ করলে তাকে ৩,৭০,০০০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রী সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার ঢুকুরিয়াবেড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী মন্ডলের ছেলে মোহাম্মাদ ইউছুপ আলী। পাচারকারী গাজিপুর জেলার আনিছুর রহমান। উদ্ধারকৃত পাসপোর্টটি কুমিল্লা জেলার বল্লভপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে রুনা বেগম।
.png)
বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবি। এসময় আর্মড পুলিশের সদস্যরা বিজিবিকে সহযোগিতা করে।
ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী বলেন, তাকে এক বছর ভারতে ৩,৭০.০০০ টাকার কাজের চুক্তিতে ভারত পাঠাবে বলে আনিছুরের সঙ্গে চুক্তি হয়। এরপর সে জানতে পারে তার শরীর থেকে কিডনি পাচার করা হবে। সে গত বুধবার রাতে ভারত যেতে রাজী না হলে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। এরপর ঢাকা থেকে বিমানে করে যশোর নেয়া হয়।
যশোর থেকে প্রাইভেট কারে করে বেনাপোল নিলে সে বিজিবিকে দেখে ঘটনা খুলে বলে। ওই নারীর পাসপোর্ট তার কাছে কেন জানতে চাইলে সে বলে আনিছুর এটা আমার কাছে দিয়েছে ভারতে যেখানে যাব তাদের কাছে দিতে। তবে ভারতে আমাকে যেখানে পাঠাবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় লোকেরা বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল চেকপোষ্টে অপেক্ষা করছে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ইউনুছ এর বাবা ইদ্রিস আলী জানান, তার ছেলে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস শিল্প কারখানায় চাকরী করে। তাকে ভারতে নেয়া হচ্ছে অথচ তিনি জানেন না।
এদিকে পাচারকারী আনিছুর রহমান বলেন, তার সঙ্গে তার কোম্পানির লোকের কিডনি দেওয়া বাবদ চুক্তি হয়। সে মোতাবেক তাকে আমি বেনাপোল এগিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছি। তাদের ঢাকা মিরপুর ২ নং অফিস। তবে অফিসের নাম জানা যায়নি।
এদিকে উদ্ধারকৃত রুনা বেগমের সাথে আলাপ করলে সে জানায়, আমি দরিদ্র মানুষ। আমি ফেসবুকে বাংলাদেশ কিডনি ডোনার সংস্থা নামে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এই যোগাযোগের মধ্যে আমার নিকট থেকে আমার পাসপোর্টটি নেয় ইউনুছ আলী। এরপর থেকে সে আমার ফোন আর ধরে না। আমি আমার পাসপোর্টটি ফিরে পেতে চাই।
বেনাপোল চেকপোষ্ট বিজিবি সুবদোর আশরাফ আলী বলেন, এটা তদন্ত চলছে । সে কিডনি পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে মামলা দিয়ে থানায় সপোর্দ করা হবে।