ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হবিগঞ্জ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ কয়েদি

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৫ জুলাই ২০২১
হবিগঞ্জ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ কয়েদি
হবিগঞ্জ জেলা কারাগার

প্রতিদিনই ২০ থেকে ৩০ জন আসামিকে গ্রেফতার করে প্রেরণ করা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে। এদের অনেকের অপরাধ জামিন যোগ্য। আবার কারাগারে থাকা অনেকেরই জামিন পাওয়ার মতো সময় হয়েছে।

কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে জামিনও পেয়েছেন। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় আইনি সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এভাবে কয়েদি বৃদ্ধির ফলে এখন হবিগঞ্জ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ কয়েদি অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগী ও বিচার কাজে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অচিরেই যেন পুরোপুরি চালু করা হয় আদালতের কার্যক্রম।

জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৫০০ জনের। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কয়েদি আছেন ১ হাজার ৩৩৩ জন। এর মাঝে শুধু মঙ্গলবার ও বুধবারই সেখানে এসেছেন প্রায় অর্ধশত আসামি। এভাবে প্রতিদিন নতুন নতুন কয়েদি আসলেও আদালতে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কারাগারে বেড়েই চলেছে কয়েদির সংখ্যা। আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ অপরাধের জন্য আত্মসমর্পণের সুযোগ না থাকায় অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অথবা গ্রেফতার হয়ে বিনা কারণে কারাবরণ করছেন।

Advertisement

আবার আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচার কার্যের সঙ্গে জড়িত আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিদের অবস্থা ভালো নেই। যদিও বৃহস্পতিবার থেকে ফের ভার্চুয়ালিভাবে আংশিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

এদিকে, বিচারপ্রার্থীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে হতাশা। আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেউ আসছেন প্রিয়জনদের জামিনের আশায় আবার কেউ আসছেন বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু কোনো আশার আলো নেই তাদের কাছে। তারা ন্যায় বিচারের স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। এমতাবস্থায় যারা জামিনযোগ্য অপরাধ করেছেন তাদের আইনি সুবিধা দিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভার্চুয়াল আদালত চালু করার দাবি আইনজীবীদের। যদিও বৃহস্পতিবার থেকে এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। 

হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী জানান, করোনার জন্য আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার থেকে ভার্চুয়ালিভাবে আদালত আবার শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালতের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে ভালো হতো।

হবিগঞ্জ জেলা অ্যাডভোকেট সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল মনসুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদালত বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন জেলা কারাগারে বন্দি বাড়ছে অন্যদিকে আদালতে মামলার জটও বাড়ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।  

কারাগারে অধিক কয়েদির কারণে কী কী সমস্যা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান হবিগঞ্জের জেল সুপার জাকের হোসেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!