নয়ন কালকিনি পৌর শহরের দক্ষিণ রাজদী গ্রামের গৌতম পালের ছেলে। তিনি উপজেলা সদরের ‘হাওলাদার ফার্মেসি’র কর্মচারী ছিলেন। আদরের বড় ছেলের মৃত্যু সইতে না পেরে একই দিন দুপুরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তার বৃদ্ধা মা।
স্বজনরা জানান, ১৭ দিন আগে বাড়ির সামনে একটি কুকুরকে দেখে তাড়া দেন নয়ন পাল। এতে কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে পাঁচ-ছয়টি কামড় দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সেখানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
.png)
বুধবার সকালে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন নয়ন। পরে তাকে রাজধানীর মহাখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। এছাড়া ঘটনার দিন কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আরো ১৪ জন আহত হয়েছিলেন।
এদিকে, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও আদরের বড় ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ৬০ বছরের বৃদ্ধা মা মেঘনা পাল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা।
নয়ন পালের প্রতিবেশী দিদার হোসেন বলেন, নয়নের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তার মা মেঘনা পাল আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
হাওলাদার ফার্মেসির পরিচালক ফারুক আলম খোকন বলেন, নয়ন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।