সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল থেকে ১৩ দিন পর মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উদ্ধারের পর লোকালয়ে এনে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে বনের ইটবাড়িয়া এলাকা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। একটি শিংড়া গাছের ডালে বসা অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।
.png)
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার শেষ প্রান্ত সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী বাজারে আসেন। এরপর হঠাৎ গত ১৮ জুলাই দুপুরে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের সামনের খাল সাঁতরে ওই নারীকে বনে উঠতে দেখেন এলাকাবাসী। এরপর আর ফিরে না আসায় গত মঙ্গলবার থেকে তাকে খোঁজা শুরু করেন বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন কিছু যুবক। পরবর্তীতে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে স্থানীয় ২৫-৩০ জন ট্রলারযোগে বনে খোঁজা শুরু করেন। এভাবে তিন দিন ধরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গহীন বনে পাওয়া যায় তাকে।
উদ্ধারকারীরা জানান, ওই নারী মাটি থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট উপরে গাছের ডালে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বসা ছিল। কাপড়ের একটি পোটলাও ছিল তার সঙ্গে। প্রথমে সে গাছ থেকে নামতে চায়নি। বলে, আমি এখানেই বনে থাকব। তোরা চলে যা। এর পর গাছে উঠে জোর করে নামিয়ে আনা হয়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বনে প্রবেশের খবর আমাকে সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়রা জানায়। পরে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে তারা বনে তল্লাশি করে তাকে উদ্ধার করে এনেছে।
তবে বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং গত তিন দিনের টানা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে এতোদিন থাকার পরও বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভারিক রয়েছে ওই নারী। এদিকে নির্জন বনের এমন প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে এতদিন স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল তা নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।