আঙুরের মতো ছোট আকারের করমচা বিভিন্ন রঙ ও স্বাদের হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের বাজারগুলোতে এ ফল দেখা যায়। ফলিত পুষ্টিবিদদের মতে, করমচা ভিটামিন সি ও ঔষধি গুণে ভরপুর। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ কারণে মৌসুমে এ ফল কিনতে বাজারে ভিড় করে মানুষ।
তথ্য ভান্ডার উইকিমিডিয়া থেকে জানা গেছে, করমচা ভিটামিন সি ও আয়রনে পরিপূর্ণ। করমচা দিয়ে আচার ও সুস্বাদু জেলি তৈরি করা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকাল আগে থেকেই করমচা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসা ক্যারান্ডাস। পার্শবর্তী দেশ ভারতে করমোচা কারাউন্ডা নামে পরিচিত।
.png)
চাহিদা ও দাম ভালো হওয়ায় দেশে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন করমচা চাষে। এমনই একজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাবুল। প্রথমে অনেকটা শখের বসে লাগালেও এখন বুঝতে পারছেন ফলটি অনেক দরকারি। করমচা প্রায় সারাবছর তরকারি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাকা করমচার রস দিয়ে সুস্বাদু জেলি তৈরি করা যায়।

কামরুজ্জামান বাবুল জানান, যখন গাছে ফল আসে, তখন গ্রামের মানুষ করমচা নিতে আসে। ছোট ছেলে-মেয়েরা এ ফল পেয়ে খুব খুশি হয়। বৃষ্টির পরশ পেলেই করমচা লালচে হতে শুরু করে। এটি দেখতে অনেকটা কুলের মতো হয়। তবে খেতে টক। আবার এটি পাকলে দেখতে অনেকটা জামের মত কালচে বর্ণের হয়। তখন খেতে কিছুটা মিষ্টি লাগে।
তিনি আরো জানান, বৃক্ষমেলা বা বিভিন্ন হাট-বাজারে ১০-১০০ টাকার মধ্যে করমচার চারা কিনতে পাওয়া যায়। একটু যত্ন করলেই ২-১ বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে। এমনকি চারা রোপনের এক বছরের মধ্যেও অনেক গাছে ফল আসতে পারে। ভরা মৌসুমে একটি থোকায় ৩-৮টির মতো ফল হয়। ফলের রং প্রথম দিকে হয় সবুজ অথবা সাদাটে। এরপর ক্রমেই লালচে হতে শুরু করে। সম্পূর্ণ পেকে গেলে এটি গাড় লাল থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে। পাকা ফল মুখে দিলে মুখ রসে ভরে যায়।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রধান কৃষিবিদ ড. মো. নূর আলম জানান, করমচা ঔষধি ও পুষ্টিগুণে ভরা। এতে থাকা কার্বহাইড্রেট মানবদেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বাত ও ব্যথাজনিত জ্বর নিরাময় করে। করমচা যকৃত ও কিডনি রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে। এর পটাশিয়াম শরীরের দূষণ পরিষ্কারকরণে সহায়তা করে। কৃমিনাশক কাজ করে।
তিনি আরো জানান, আকারে ছোট এ ফলের ঔষধি গুণ বলে শেষ করা যাবে না। করমচায় কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল না থাকায় ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের জন্য উপকারী। মৌসুমী সর্দি-জ্বর দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন করমচা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে।