ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাঙামাটিতে বিদেশি ফল ‘রামবুটান’

মো. নুরুল আমিন, রাঙামাটি
প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
রাঙামাটিতে বিদেশি ফল ‘রামবুটান’
রাঙামাটিতেও পাওয়া যাওয়া যাচ্ছে বিদেশি ফল ‘রামবুটান

‘রামবুটান’ একটি বিদেশি ফল। দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের কদম ফুলের মতো। অনেকেই প্রথমবার দেখে এ ফলটিকে ‘দাড়িওয়ালা লিচু’ মনে করেন। কাঁচা অবস্থায় দেখতে ফলটি সবুজ আর পাকলে লাল বা গোলাপি রঙ ধারণ করে। এতে যথেষ্ট পরিমাণ ওষুধি গুণ বিদ্যমান। খোসার গায়ে চুল বা কাঁটার মতো অংশ থাকে । উপরের অংশ ফেলে দিলে ভেতরের অংশ দেখতে লিচুর মতো, বেশ সুস্বাদু। রাঙামাটিতেও পাওয়া যাওয়া যাচ্ছে এ বিদেশি ফল ‘রামবুটান।

সরেজমিনে রাঙামাটির বিখ্যাত বাজার বনরূপায় ঘুরে দেখা গেছে, রামবুটান ফল আকারভেদে প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় এবং কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতা সান্তামনি চাকমা জানান, রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে এ বিদেশি ফল সংগ্রহ করে তিনি বনরূপা বাজারে বিক্রি করছেন।

Advertisement

রাঙামাটি কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তপন কুমার পাল জানান, রামবুটান ফলটি লিচু পরিবারের। আদি নিবাস মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ফলটির খোসা হালকা চুলের মতো আবরণে ঢাকা। মালয় ভাষায় ‘রামবুট’ শব্দের অর্থ চুল। তাই অনেকে একে হেয়ারি লিচু, কেউ কেউ ফলের রানিও বলেন। এই ফল চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূল। চারা রোপণের ৪ থেকে ৫ বছর পর গাছে ফলন আসে। চৈত্র মাসে গাছে ফুল হয়ে শ্রাবন মাসে ফল পাকতে শুরু করে। একটি গাছে শুরুর দিকে ২০ থেকে ২৫ কেজি ফলন দেয়। পরে তা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ কেজিতে দাঁড়ায়।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো জানান, রাঙামাটি সদর উপজেলার রাঙাপানি এবং বন্দুকভাঙ্গা এলাকায় কিছু রামবুটানের চাষ হয়েছে। পাহাড়ে এ বিদেশি ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ শুরু করা হয়নি।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, কৃষি কর্মকর্তারা রামবুটান চাষ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহী করতে কাজ করছে। কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্যাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে রামবুটান চাষ ব্যাপকতা লাভ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এনআইএইচ এর তথ্য অনুসারে জানা যায়, রামবুটান হলো এক ধরনের মাঝারি আকৃতির ফল। বৈজ্ঞানিকভাবে এর নাম নেফেলিয়াম সিয়াম। এটি মূলত মালে ইন্দোনেশিয়ান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ। ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়া রামবুটানের মধ্যে তামা রয়েছে, যা রক্তনালী এবং রক্ত কোষের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে লোহার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে কাজ করে। এছাড়া নানা ওষুধি গুণাগুণে ভরা এ ফলটি। এটি আয়রনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে পরিচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!