এদিকে লাশ উদ্ধারের দিন থেকে আসামি রাজিয়া সুলতানার স্বামী কুদ্দুস গাজী নিখোঁজ রয়েছেন। খুলনার নিরালা এলাকায় সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে তাকে দেখা যায়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার সন্তানসহ স্বজনদের ধারনা- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ বা র্যাবের কোনো টিম তাকে আটক রেখেছে।
জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রাতে বাগালী ইউপির বামিয়া গ্রামের হাবিবুল্লাহ গাজী, তার স্ত্রী বিউটি খাতুন ও মেয়ে হাবিবা খাতুন টুনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন সকালে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার হয়।
.png)
এলাকাবাসী জানায়, হাবিবুল্লাহ গাজী তক্ষক সাপের বেচাকেনায় জড়িত ছিল। তাদের ধারণা, তক্ষক সাপ কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে শত্রুতায় এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
কয়রা থানার ওসি মো. রবিউল হোসেন জানান, তক্ষক সাপের বেচাকেনার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত চলছে। যে কোনো উপায়ে হত্যার মোটিভ উদঘাটন করা হবে।
জানা যায়, হত্যা মামলায় সন্দেহজনক গ্রেফতার হওয়া রাজিয়া সুলতানার স্বামী কুদ্দুস গাজী খুলনার নিরালা কাঁচাবাজার এলাকায় সব্জি বিক্রি করেন। তিনি ব্যবসার কারণে অধিকাংশ সময় খুলনায় থাকতেন। এদিকে কুদ্দুস গাজী বাড়িতে না থাকার সুযোগে হাবিবুল্লাহ প্রায়ই তার স্ত্রী সুলতানাকে উত্যক্ত করতো। প্রায় সাত মাস আগে রাতের বেলায় হাবিবুল্লাহ ওই বাড়িতে গেলে সুলতানা তাকে ধারালো বটি দিয়ে হাতে আঘাত করেন। পরে হাবিবুল্লাহ আর কখনও ওই বাড়িতে যাবে না এই শর্তে স্থানীয় মীমাংসা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ হয় সুলতানার ওপর। লাশ উদ্ধারের পরপরই তাকে কয়রায় গ্রেফতারের পর খুলনার নিরালা থেকে রাত ৯টার দিকে নিখোঁজ হয় কুদ্দুস গাজী। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তবে কুদ্দুস গাজীকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।