জেলা সিভিল সার্জন বলছেন, সাপের ছোবলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জেলা সদর হাসপাতালে সাপের ছোবলের সবধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
জানা যায়, গত একমাস ধরে নাসিরনগর উপজেলার সদরের প্রত্যন্ত জনপদ দত্তবাড়ী এলাকাসহ আশপাশের এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা সাপের ছোবলের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
.png)
স্থানীয়রা জানান, জমিতে কৃষিকাজ করা সময় কিংবা গ্রামীণ জনপদে গো-চারণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করার ক্ষেত্রে পুকুরপাড়ের উচু জমিতে বা ইটের স্তপে দেখা মিলছে গোখরা জাতীয় সাপের। বাহারী রঙের বিষাক্ত সাপগুলো প্রায়শই ফণা তুলে এদিক ওদিক তাকায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সাপের আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারি না। গত বছরেও আমাদের নাসিরনগরে দুইজন সাপের ছোবলে মারা গেছে। নাসিরনগরে সাপের ছোবলের কোনো চিকিৎসা নেই সে জন্য আতঙ্কে দিন পার করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান জানান, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার রাস্তায় সাপ দেখেছি। ফণা তুলে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে। এই কারণে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারছি না।
সাপ উপদ্রব এলাকায় সাপ ধরতে অভিযান শুরু করেছেন বাংলাদেশ ওয়েল লাইফ রেস্কিউ দলের দুই সদস্য।
রেস্কিউ টিমের সদস্য তৌফিকুর রহমান হিমু জানান, এখানে সাপের একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সাপের খাবার ও চলাফেরা করার জন্য এখানে সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। জায়গাটি পরিষ্কার করে সাপগুলোকে ধরে তাদের পরিবেশে অবমুক্ত করে দেওয়ার চিন্তা করছি।
বাংলাদেশ ওয়েল লাইফ রেস্কিউ টিমের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান জানান, এখানে গোখরা সাপ থাকার জন্য যথেষ্ট পরিবেশ আছে। জলঢোড়া সাপের দেখা পাওয়া গেছে। গোখরা সাপগুলো ইটের নিচে থাকার সম্ভাবনা আছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ জানান, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় নাসিরনগরের বিষাক্ত সাপের ছোবলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। সাপের ছোবলে আক্রান্ত হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ ভেনম রিসার্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখন পর্যন্ত ১০০ প্রজাতির সাপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। বিষধরদের মধ্যে শঙ্খিনী অন্যতম।