ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া পর্যটকরা আজও ফিরতে পারেননি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩:২০, ৫ ডিসেম্বর ২০২১
সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া পর্যটকরা আজও ফিরতে পারেননি
ফাইল ছবি

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়েছেন তিন শতাধিক পর্যটক। ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’–এর কারণে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বলবৎ থাকায় আজ রোববারও ফিরতে পারেনি তারা। 

তবে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকেরা ভালো রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী।

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এ রুটে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

Advertisement

আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার পাশাপাশি সতর্কসংকেত প্রত্যাহার না করায় ওই তিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে কোনো জাহাজ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে না পারায় কোনো পর্যটক ফিরতে পারেননি। অন্যদিকে সাগর উত্তাল থাকায় যাত্রী নিয়ে কোনো ট্রলার সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে অনুমতি দেয়নি স্থানীয় কোস্টগার্ড।

তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রোববার সকাল থেকে সোমবার পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরদিন জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব পর্যটক টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে রাত্রী-যাপনকারী পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানান ইউএনও পারভেজ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের ট্রাফিক সুপারভাইজার জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এ রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জাহাজগুলো টেকনাফে ফিরেছে। তবে বেড়াতে এসে ৩০০ এর বেশি পর্যটক দ্বীপে আটকে গেছেন। সেখানে রাত্রীযাপন করবেন তারা। এ রুটে পাঁচটি জাহাজ চলাচল করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জাহাজ চলাচলে আবার অনুমতি দেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ও জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে পাঁচটি জাহাজে ১ হাজার ৩০০ এর বেশির পযর্টক সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যান। এরমধ্যে প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক ফিরে এলেও বাকিরা আটকা পড়েন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে কয়েকশ পর্যটক দ্বীপে রাত্রীযাপন করছেন। তারা ভালো আছেন। তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

জাওয়াদ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের নৌযানকে দ্রুত নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!