চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি এলাকার পানির ট্যাংক রেলস্টেশনের পাশের বস্তি। শনিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে আগুনে ৩৩টি ঘর পুড়ে যায়। সেখানে নাসিমা আক্তারদের ঘরও ছিল।
আগুন নিভে গেলে শনিবার সকাল ১০টায় নাসিমা আক্তার পোড়া স্তূপে বই খুঁজছিল। তার মা ঝর্ণা আক্তার তাকে সাহায্য করছিলেন। নাসিমা পশ্চিম মাদারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
.png)
নাসিমা জানায়, আগের দিন মাগরিবের পর অনেকক্ষণ পড়াশোনা করেছে। ঘুমানোর আগে বইগুলোও গুছিয়ে রেখেছিল। আজকে সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে রাতের পড়া চোখ বোলানোর কথা থাকলেও আগুন সেটি হতে দিল না।
নাসিমার মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, সব শেষ হয়ে গেল। বিয়ের কিছু স্বর্ণ ছিল সেগুলোও পুড়ে গেছে। যে সিন্দুকে রেখেছি ওইটিই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি জানান, তারা ৩০ বছর ধরে এখানে থাকছেন। তার তিন মেয়ে ও তিন ছেলে। বাসা পুড়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।
তাদের পাশের ঘরে থাকতেন ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান ও তার স্বামী আবুল কালাম। তারা ৪০ বছর ধরে এই বস্তিতে থেকে আসছিলেন। তাদের দুটি কক্ষও একেবারে পুড়ে যায়। ভোর থেকে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনো না খেয়ে আছেন। কারণ ঘরের সঙ্গে জমানো টাকা-পয়সাও পুড়ে গেছে।
নুরজাহান বলেন, পানি খাওয়ার জন্য পানির পাত্রটাও নেই। শীতের সময় কোথায় যাবো, কোথায় ঘুমাব আল্লাহই জানে।
কীভাবে আগুন লাগলো প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে কারো শত্রুতা নেই। মানুষের ঘরে ঘুরে কাজ করে খাই। কেউ দিনমজুরি করে দিনে এনে দিনে খায়। কেউ আগুন লাগাই দিলে আল্লাহ বিচার করুক।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, তিনটি সারিতে ২২ জন মালিকের বস্তিগুলো ছিল। ছোট ছোট এক কক্ষবিশিষ্ট ৩৩টি ঘরে এই আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।