সোমবার সকালের দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিতু, মিতুল ও খলিল উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার শহীদ লিয়াকত সড়কের আব্দুল মোতালেবের ছেলে খলিলুর রহমান। একই এলাকার জামিরুল ইসলাম জাম্বুর ছেলে মীর সাইমুম ওরফে জিতু, মৃত খাদিমুল ইসলাম টুলুর ছেলে জুয়েল রানা এবং মজিবর রহমান জিন্নাহর ছেলে মিতুল। এ মামলায় পাঁচজন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
.png)
আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২২ অক্টোবর বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর মৌজার শহীদ ইয়াকুব আলী সড়কের শেষ মাথায় বালুর মাঠ কালভার্টের কাছে আরসিসি ড্রেনের মধ্যে রেজাউলের গলাকাটা লাশ দেখতে পাই স্থানীয়রা। রেজাউলের পেট, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। লাশ উদ্ধারের তিন থেকে চারদিন আগে আসামি জুয়েল রেজাউলের কাছে একটি মোবাইল রেখে ৩০০ টাকা নেয়। টাকা ফেরত না দিয়ে মোবাইল ফেরত নেয়ার জন্য রেজাউলের কাছে যায় জুয়েল। পরে ২১ অক্টোবর রাতে আসামি জুয়েল ও জিতু রেজাউলকে ডেকে নিয়ে যায়। মোবাইল ফেরত নেয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা ওই রাতেই হত্যা করে ড্রেনের ভেতর ফেলে দেয় রেজাউলের লাশ। পরে রেজাউলের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রেজাউলের লাশ বলে নিশ্চিত করে।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ রেজাউলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর রেজাউলের বড় ভাই রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
রেজাউল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাহাদুর আলী বিশ্বাস দ্বিতীয় লেনের ইন্তাজ আলীর ছেলে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খবির আহমেদ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১৩ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দেন। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, রেজাউল হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় পাঁচজন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি পলাতক রয়েছেন।