মামলায় রেশমী আক্তারের স্বামী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। নরসিংদীতে স্ত্রী ও শিশু ছেলে হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাহেব আলী পাঠান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, রোববার রাত পৌনে দুইটার দিকে শহরের ঘোড়াদিয়া মহল্লায় হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ১৫ মাস বয়সের এক ছেলে শিশু ও এক নারীর লাশ দেখতে পায়। এ সময় হত্যাকারী ফখরুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় টহল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
.png)
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘাটক স্বামী ফখরুলের দাবি স্ত্রী রেশমা আক্তার পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে, যা নিয়ে প্রায়ই পারিবারিকভাবে কলহ তৈরি হয়। যার ফলে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বাসায় ব্যবহৃত ছোরা দিয়ে শরীরে ও পেটে আঘাত করে। পরে গলায় ছুরি দিয়ে কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় পাশে ঘুমন্ত দেড় বছরের শিশু ছেলে সালমান সাফায়াত কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও একই ছোরা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
অপরদিকে মেয়ে ও নাতিকে হত্যার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে এখানকার পরিবেশ।
নিহত রেশমী আক্তারের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ২ বছর আগে পারিবারিকভাবে পৌর শহরের দত্তপাড়া এলাকার পারভেজ মিয়ার মেয়ে রেশমীর সঙ্গে বিয়ে হয় ঘোড়াদিয়া এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে ফখরুলের। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেশমীর উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতো। এরই মধ্যে তাদের কোল জুড়ে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সবশেষ রোববার রাত পৌনে ২টার দিকে রেশমী ও তার শিশুকে গলাকেটে হত্যা করা হয়।
নিহতের বাবা পারভেজ মিয়া বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েটাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। আমরা কষ্ট পাব ভেবে আমার মেয়ে আমাদের কিছুই বলত না।
তিনি আরো বলেন, ফখরুল মাদকাসক্ত ছিল। কিন্তু আমরা জানতাম না। বিয়ের সময় এসব তথ্য গোপন রেখে বিয়ে হয়। এখন আমি আমার মেয়ে ও নাতি হত্যার বিচার চাই।
প্রতিবেশী ও ফখরুলের বাড়ি নির্মাণের মিস্ত্রি সোহেল বলেন, ফখরুল মাদকাসক্ত ছিলো। বেশ কয়েকবার তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে তাকে বাড়িতে এনে শীলমান্দি এলাকায় মাসকো নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন শ্বশুর পারভেজ মিয়া। চাকরি করতে থাকে প্রায় ১৫ দিন হয়।
সোহেল আরো বলেন, ফখরুল মেধাবী একজন ছাত্র ছিল। জানতে পারছি সে কলেজ জীবন থেকেই মাদক সেবন করতো। মেট্রোরেলসহ বেশকয়েকটি ভালোমানের চাকরি হারাতে হয়েছে এ মাদকের জন্য।