মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার, খোকন ও আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি আয়নাল পলাতক রয়েছেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পাবনার বেড়া উপজেলার কৌটুলা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে দেলোয়ার (৩৩), একই উপজেলার পেচাকোলা গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে আলমগীর (৬০), ঈশ্বরদী উপজেলার মৃত মহিরের ছেলে খোকন (৪৫) এবং ঈশ্বরদীর বাঘাইল গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে আয়নাল (৫৩)। এ মামলায় মজনু, ইউসুফ ও নূর মোহাম্মদ নামে তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
.png)
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে হাফিজুর রহমান চালিত হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া থেকে ধাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বারোমাইল এলাকায় পৌঁছালে বাস থামিয়ে দুজন যাত্রীবেশী ডাকাত বাসে উঠে। বাসে উঠে ড্রাইভার ও সুপারভাইজারের মাথা ও গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে যাত্রীদের টাকা ও মালামাল ডাকাতি করতে থাকে। এমতাবস্থায় বাসটি ভেড়ামারা রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে র্যাবের ৩ থেকে চারটি গাড়ি বাসটিকে ঘিরে ফেলে এবং পাঁচ ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ করা হয়। পরে তাদের কাছে থেকে দেশীয় অস্ত্র, ৭টি মোবাইল ও ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হানিফ পরিবহন বাসের ড্রাইভার হাফিজুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার চার আসামিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড আদেশ দেন।
১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দেন। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়নাল পলাতক রয়েছেন।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, হানিফ পরিবহনে ডাকাতির মামলায় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় চার ডাকাতের ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং এক আসামি পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় মজনু, ইউসুফ ও নূর মোহাম্মদ নামে তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।