এলাকায় জানাজানি হলে বকুলি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্বারা বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজ্জাক পেদা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন বকুলি। মামলার পর একই বছরের ২০ জানুয়ারি তিনলাখ টাকা দেনমোহরে বকুলিকে বিয়ে করেন রাজ্জাক। এছাড়া তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধারও নেন রাজ্জাক। তিনি রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রী।
পাঁচ বছর সংসার জীবন ভালোই কাটছিলো এই দম্পতির। পরবর্তীতে সামন্য বিষয় নিয়ে রাজ্জাক তার স্ত্রী বকুলিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। তাই স্বামীর কাছে ঐ ৮০ হাজার টাকা দাবি করে বকুলি। ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি এ বিষয় নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয় পরে রাজ্জাক তার বাড়ি থেকে বকুলিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত রাজ্জাক তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না, বাড়িতেও নিচ্ছেন না। তাই বকুলি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আবারো নারী নির্যাতন মামলা করেছেন। এ মামলায় আসামি রাজ্জাক পেদা। বর্তমান রাজ্জাক জামিনে আছেন।
.png)
এ ব্যাপারে বকুলি বেগম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক পেদা আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ভরণপোষণ দেয় না। আমার অনেক টাকা, স্বর্ণগয়না মেরে খেয়েছে রাজ্জাক। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাই আমি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। আমি গরিব বলে কোনো বিচার পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, রাজ্জাক নিজের স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ পারে না। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান সে মেম্বার পদে নির্বাচন করবে কি করে? নির্বাচন অফিস কি তার কাগজ যাচাই-বাছাই করেনি।
অন্যদিকে, নড়িয়া নিতিরা গ্রামের সংখ্যালঘু নিত্যাআনন্দ মণ্ডলের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর তোলে আব্দর রাজ্জাক পেদা। গত ২৪ এপ্রিল নিত্যাআনন্দ মণ্ডলের ছেলে হৃদয় মণ্ডল ও অলক মণ্ডল বাধা দিলে তাদের মারধর করে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরেরদিন ২৫ এপ্রিল হৃদয় বাদী হয়ে রাজ্জাক পেদাসহ পাঁচজনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি রাজ্জাক পেদা। এই মামলায়ও রাজ্জাক জামিনে আছেন।
নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামি আবদুর রাজ্জাক পেদা জামিনে এসে নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।
ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক পেদা বলেন, সংখ্যালঘু হৃদয় মণ্ডল যে মামলা করেছে, ঐ ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম না। তবুও আমাকে মামলায় আসামি করেছে। আর বকুলি বেগম আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় পরাজিত হয়েছে। আমি মামলা থেকে জামিনে আছি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামী ৫ জানুয়ারি ভূমখাড়া ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আব্দুর রাজ্জাক পেদা মেম্বার প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পান।
নড়িয়া থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ফকির বলেন, সংখ্যালঘুদের মারধরের ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক পেদাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। চারজনের জামিনে হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অপর মামলাটি সম্ভবত আদালতে করা হয়েছে।