কব্জি দিয়ে লিখে এসএসসি পাশ করলেন মোবারক
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের দিনমজুর এমদাদুল হকের প্রতিবন্ধী সন্তান অদম্য মেধাবী মোবারক আলী দুই হাতের কব্জির সাহায্যে পরীক্ষার খাতায় লিখে এসএসসি পাশ করেছেন। তারপ্রাপ্ত ফলাফল হচ্ছে জিপিএ-৩.৮৩।
মোবারক আলী চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেন। তার রোল নম্বর ছিল ২১৫৭৭৩।
মোবারক আলী শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তাকে খাতায় লিখেতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়নি। স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতো নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষার খাতায় লিখে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর সম্পন্ন করে আগে ভাগেই পরীক্ষার কক্ষ ত্যাগ করে সবাইকে অবাক করেছেন।
.png)
অদম্য মেধাবী মোবারক আলীর জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল ও হাতের তালু না থাকলেও দু’হাতের কব্জির সাহায্যে সে লেখাপড়া চালিয়ে পিএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
মোবারক আলী কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে তিনি কব্জির সাহায্যে পরীক্ষায় খাতায় লিখে সবাই তাক লাগিয়ে দেন।
ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচীব গোলাম কিবরিয়া সরকার লাকু বলেন, মোবারক আলী অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষার খাতায় লেখা সম্পন্ন করে। তার হাতের লেখা খুব সুন্দর। তার এই অদম্য প্রচেষ্টা আমাদের মুগ্ধ করেছে। মেধাবী মোবারক এ প্রতিকূলতার মাঝে ভালো ফলাফল করায় আমি তার জীবনের উন্নতি কামনা করছি।
মোবারক আলীর শিক্ষা গুরু ও কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়দুল হক বলেন, আমার শিক্ষার্থী মোবারক আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে অদম্য মেধার অধিকারী। সে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় বেশ পারদর্শী। ভালো ক্রিকেটার। সে অসহায় পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমরা বিদ্যালয় থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। সে এবার এসএসসিতে ভালো ফলাফল করায় তার ভবিষ্যত জীবনের সফলতা কামনা করছি।
জানা যায়, মোবারক আলী ১ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। জন্ম থেকে সে প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের সব কাজগুলো সে দুই হাতের কব্জির সাহায্যে নিজেই করতে পারে। তবে তার মা মরিয়ম বেগম ছোট থেকেই মোবারককে সাহায্য করে যান। ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মরিয়ম বেগম কোনো বিরক্তবোধ না করে ছেলে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তাকে মানুষ করার। এজন্য তিনি মোবারককে স্কুলমুখি ও কর্মক্ষম করতে দুই হাতের কব্জির মাঝখানে কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ধরিয়ে দিয়ে ও খাতায় লেখার কৌশল শেখান।
মায়ের কাছে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায় মোবারক। এভাবে নিজের প্রতিবন্ধতাকে হার মানিয়ে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকা নিয়ে উত্তীর্ণ হয়।
মোবারক আলী বলেন, আমি দুই হাতের কবজি দিয়ে লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে জিপিএ-৩.৮৩ পেয়েছি। এতেই আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহ। জেএসসিতে ভালো ফলাফল না হওয়ায় এসএসসিতে ফলাফলের মূল্যায়নে ৩.৮৩ পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমার দুই হাত নেই। কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতে আমি নিজেকে শিক্ষাকতা পেশায় নিয়োজিত করতে চাই। এজন্য আমি সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।