ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কুষ্টিয়ায় দরবার শরীফ ভাঙচুরের পর আগুন দিল এলাকাবাসী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:১৭, ৮ জানুয়ারি ২০২২
কুষ্টিয়ায় দরবার শরীফ ভাঙচুরের পর আগুন দিল এলাকাবাসী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তাছের ফকিরের দরবার শরীফে (কল্যাণপুর দরবার শরীফ) আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে তাছের ফকিরের দরবার শরীফে ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইয়াসির আরাফাত। 

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে তাছেরের দরবার শরীফের পাশের একটি মুদি দোকানে একটি স্থানীয় মেয়ে কেনাকাটা করতে যায়। এ সময় দরবারের কয়েকজন বহিরাগত ভক্ত ওই মেয়েকে অশ্লীল ভাষায় উত্ত্যক্ত করেন। এ নিয়ে বিকেলের দিকে দরবারের ভক্তদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে রাত ৮টার দিকে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

আরো পড়ুন: নানির শাড়িতে ঝুলছিল কিশোরী ইভা

দরবার শরীফের ভক্তরা বলেন, দরবারের ভক্তদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে এলাকার একটি কুচক্রী মহল দরবারে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দুটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভক্তদের মারপিট করে আহত করে ও একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমরা স্থানীয় ওই সন্ত্রাসী বাহিনীদের শাস্তি চাই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এঘটনা ঘটিয়েছে এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভক্তরা।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশহোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে সেলিম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। আমি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এলাকাবাসীকে থামানোর চেষ্টা করছি। বিক্ষুব্ধ জনতা এখন মোটামুটি শান্ত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা। 

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও দরবারের ভক্তদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে মাজার ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের টিম আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। অপ্রীতিকর যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধে ওই এলাকায় পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!