ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কলেজে ভর্তি হওয়ার টাকা না পেয়ে অভিমানে জীবন দিল মেধাবী কূলসুম

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪১, ৯ জানুয়ারি ২০২২
কলেজে ভর্তি হওয়ার টাকা না পেয়ে অভিমানে জীবন দিল মেধাবী কূলসুম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এসএসসি পাশ করে সহপাঠিদের সঙ্গে কলেজে ভর্তি হবে নিজের মধ্যে এমন স্বপ্ন এঁকে ছিলেন দিনমজুরের মেয়ে কূলসুম খাতুন (১৭)। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও কলেজে ভর্তি হওয়ার সেই স্বপ্ন পূরুণ হলো না তার। কলেজে ভর্তি হবার টাকা না পেয়ে বাবা মা’র ওপর প্রচণ্ড অভিমান করে জীবনটাই দিয়ে দিলো কূলসুম।

গত শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজ ঘরে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মেধাবী কূলসুম দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর খুলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর রোহাব মন্ডলের মেয়ে।

দেবীপুর গ্রামের তার সহপাঠী রাবিয়াত বিনতি জানান, ‌‘কূলসুমের পরিবারে নিজের মা ছাড়াও সৎ মা আছে। সে পড়ালেখায় খুবই মনোযোগী ছিল। তবে সুযোগ সুবিধা তেমন পেত না, তার বাবা একজন দিনমজুর।’

Advertisement

আরো পড়ুন >>> উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে ৪.৮৩ পয়েন্ট পেয়েছে। পাশ করার পর কূলসুমের জেদধরে তার সহপাঠিদের সঙ্গে কলেজে ভর্তি হবেন। গতকাল রোববার সহপাঠিদের সঙ্গে কলেজ ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। এজন্য গত শনিবার বিকেলে কূলসুম তার বাবা মা’র কাছে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য টাকা চায়। কিন্তু অভাবের সংসারে কূলসুমের কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো টাকা ছিল না পরিবারের কাছে। তাই টাকা দিতে পারবে না বলে জানায় কূলসুমের বাবা মা। তাদের এমন সিদ্ধান্ত কিছুতেই মানতে পারছিল না কূলসুম। অভিমান নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিমান নিয়ে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

আরো পড়ুন >>> দুই গারো তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ: পাঁচ আসামি ২ দিনের রিমান্ডে 

তার শিক্ষক দেবীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নূরুল হুদা রনি বলেন, ‘কূলসুম পড়ালেখায় ভাল ছিলো। তার বাবা খুবই দরিদ্র। সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৮৩ পয়েন্ট নিয়ে পাশ করে। অভিমান নিয়ে তার এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছেন শিক্ষক-সহপাঠিরাও।’

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, ‘মেয়েটার কলেজে ভর্তি হওয়ার টাকা ও বই কিনে দিতে চায়নি বাবা মা। এতে অভিমান নিয়ে সে আত্মহত্যা করে। ওই মেয়েটার পরিবার খুব দরিদ্র। পরিবার ও এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!