অবশেষে স্বজনদের খুঁজে পেল চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সেই শিশুটি
এক বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া সেই শিশুটির পরিচয় মিলেছে। তার নাম শরীফ মিয়া। সে মা চান বানু ও নানি আমিনা বেগমের সঙ্গে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামে বসবাস করতো।
সোমবার দুপুরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আশুগঞ্জের বৈকন্ঠপুর এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যায় শিশুটি। আশুগঞ্জ থানা পুলিশ রেললাইনের পাশ থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অবনতি দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ২৫ দিন পর শিশুটির জ্ঞান ফিরে কিন্তু সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
.png)
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। সেখানে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী উজ্জ্বল খান শিশুটিকে লালন পালন করছিলেন। এক বছরেও শিশুটির পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
আরো পড়ুন: প্রিয়তমার মান ভাঙাতে শহরজুড়ে ‘স্যরি’ ব্যানার
অবশেষে সোমবার সকালে শিশুটির মা ও নানি হাসপাতালে এসে তাকে শানাক্ত করেন। পরিচয় হিসেবে জন্ম নিবন্ধন ও মায়ের সঙ্গে থাকা একটি ছবি দেখান তারা। যাচাই-বাছাই করে দুপুরে শিশুটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শিশুটির নানি আমিনা বেগম বলেন, শিশুটির নাম শরীফ মিয়া। সে চান বানুর একমাত্র সন্তান। আমার মেয়ের মানসিক সমস্যা আছে। সে যখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন তার বাবা তাদের ফেলে চলে যায়। আমি তাদের নিয়ে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামে বসবাস করে ভিক্ষা করে চলছি।
তিনি আরো বলেন, শিশু শরীফ নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। দীর্ঘদিন পর হাসপাতালে এসে তার সন্ধান পেলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতো হাসপাতালের এক স্টাফ লালন পালন করছিলেন। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: একসঙ্গে ৩টি বাছুর প্রসব
শিশুটিকে লালন পালন করা হাসপাতালের পরিছন্নতা কর্মী উজ্জ্বল খান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, শিশুটিকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি স্নেহ করেছি। তার প্রতি আমার ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছি। এখন তার পরিবার এসেছে নিতে। মায়ের কাছে তো তার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতেই হবে। দোয়া করি সে যেন সবসময় ভালো থাকে।