ওইদিন রাতেই অপহৃত হাবিবুরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। অপহৃত হাবিবুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা (নোয়া পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মৃত ভগু মন্ডলের ছেলে।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে অপহৃতের ছোট ভাই আতাউর রহমান বাদী হয়ে সরফরাজ আলীসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
.png)
জানা যায়, পানিহারা এলাকার হাবিবুরের কয়েক একর জমি লিজ নিয়ে কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে সরফরাজ একটি আমবাগান গড়ে তোলেন। লিজকৃত টাকার লেনদেন নিয়ে সরফরাজের সঙ্গে হাবিবুরের দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণেই কৌশলে ভুয়া র্যাব সেজে তাকে অপহরণ করা হয়।
আরো পড়ুন: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে হত্যা, প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩
উদ্ধারের পর হাবিবুর জানান, ঘটনার সময় তিনি নিয়ামতপুর সদরে আসার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে অটোভ্যানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে র্যাবের পোশাক পরা দুই ব্যক্তি তার সামনে দাঁড়ান। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা হাতকড়া লাগিয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। কী কারণে তাকে আটক করা হচ্ছে- জানতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ভুয়া র্যাব সদস্যরা। এর কিছুক্ষণ পর আরো একটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন যুক্ত হন তাদের সঙ্গে। এরপর অজ্ঞাত জায়গায় নামিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এদিকে, ঘটনার সময় সরফরাজকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা। র্যাব সদস্যরা হাবিবুরকে তুলে নিয়ে গেছে বিষয়টি জানাজানি হলে সরফরাজও এলাকা থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। এতে সরফরাজকে নিয়ে সন্দেহের তৈরি হয়। পরে বিষয়টি থানায় অবগত করা হয়।
নিয়ামতপুর থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, অভিযোগ পেয়ে হাবিবুরকে উদ্ধারে নামে পুলিশ। পরে শিবগঞ্জ থানার সহায়তায় নিয়ে ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে হাবিুরকে কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার হাবিবুরকে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং থানায় অপহরণ মামলা হয়েছে।