মরিয়ম নাটোরের বড়ইগ্রাম উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সিতাব আলী মণ্ডলের মেয়ে। তবে টানা দুদিন অনশনের পর জেলার বিজয়নগর থানায় অভিযোগ করেন মরিয়ম। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বিজয়নগর থানার ওসি মির্জা মো. হাসান জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মরিয়ম। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন- ১১ বছর আগে তাকে তালাক দিয়েছেন স্বামী। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। তার স্কুলে ভর্তির জন্যে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু তার স্বামী পরিচয়পত্র দিচ্ছেন না। স্বামীর অফিসে যাওয়ার পর তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেছেন।
.png)
ওসি বলেন, কেউ যদি কোনো নারীর সঙ্গে কটূক্তি বা দুর্ব্যবহার করেন, তাহলে ৫০৯ ধারায় অপরাধ। এ ঘটনায় আমরা একটি জিডি করেছি। আদালতের আদেশ নিয়ে আমরা ঘটনাটি তদন্ত করব। তদন্ত করে আদালতে জমা দেওয়া হবে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট পাবনার আটঘরিয়া গ্রামের রামেশ্বর গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে মো. শাহ আলমের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করেন শাহ আলম। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত।
মরিয়ম বলেন, ১১ বছর আগে স্বামী আমাকে ডিভোর্স দেন। প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও আদালতে অস্বচ্ছলতার কাগজ দেখিয়ে মাসে মাত্র এক হাজার টাকা মেয়েকে দিচ্ছে। এ টাকায় মেয়ের পড়ালেখাসহ অন্য খরচ চালানো যাচ্ছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি না দেওয়ায় মেয়েকে স্কুলেও ভর্তি করানো যাচ্ছে না।
বিয়ের প্রায় তিন বছর পর ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায় শাহ আলম ও মরিয়ম দম্পত্তির। মরিয়ম এরপর ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি নেন। অনৈতিক আবদার মেটাতে না পারায় এক কর্মকর্তার মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন বলে জানান মরিয়ম।
মরিয়ম আরো বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী আমার কাবিননামার টাকা দিয়ে দেন শাহ আলম। মেয়ের জন্য মাসে এক হাজার টাকা করে দেন। কিন্তু এ টাকায় খরচ চালানো সম্ভব না।
তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন মেয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো নিয়ে। কেননা ভর্তির জন্য বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন। কিন্তু মিথিলার বাবা সেটা দিচ্ছেন না। অনেকে বলছেন বাবাকে মৃত দেখাতে। কিন্তু সেটাও আমি করতে চাই না। এছাড়া জীবিত মানুষের মৃত্যু সনদ কে দেবে?
মরিয়ম অভিযোগ করেন, এখনো তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। শাশুড়ি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলেও তার নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে সেটি মিথ্যা মামলা হিসেবে প্রমাণিত হলে রক্ষা পান। ডিভোর্স দেওয়ার পর শাহ আলম আরেকটি বিয়ে করেছেন।