সরেজমিনে দেখা গেছে, বিষখালী নদীর তীরবর্তি কিস্তাকাঠি গ্রামের বৃদ্ধা আমেনা বেগমের ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের শীতল বাতাসের প্রবাহ। হাসিনা বেগমের নিচু ঘরের টিনের চাল দিয়ে ঝরছে শিশির। ঘরের সবগুলো কাঁথা একত্রিত করেও শীত নিবারণ করতে পারছেন না আবদুল আজিজ।
আমেনা বেগম বলেন, শীতের কাপড় কই পামু? আমাগো তো কিছুই নাই। জমাজমি সব গাঙে লইয়া গ্যাছে। এখন থাকি মাইনসের বাড়ি। শীতের কাপড় আমারে কে দিবে? পুরানো ছেঁড়া একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা গায়ে জড়িয়ে থাকি। ভোর-সন্ধ্যায় খড়-কুডা আর হুগনা পাতা জ্বালাইয়া ঠান্ডা কমাই।
.png)
একই এলাকার শামসুদ্দিন মাঝি জানান, দিন-রাত খেটেও নিজের কিংবা পরিবারের জন্য এই তীব্র শীতে একটি গরম কাপড় কিনতে পারেননি। কম্বল কিংবা লেপ তো সামর্থ্যেরও বাইরে। বাধ্য হয়ে পুরনো কাঁথা পেঁচিয়ে রাতে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন। জ্বালিয়ে রাখেন খড়কুটো কিংবা গাছের ডাল-শুকনো পাতা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রাতে সাধারণ শীতের চেয়েও তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. আবু আল হাসান বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগবালাইয়ের বিষয়ে নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে সচেতনতা নেই। অন্যদিকে অনেকের ঘরে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র নেই। ফলে জ্বর, সর্দি, নিউমোনিয়া রোগ বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্টের রোগীরা এ আবহাওয়ায় বেশি কষ্ট পায়। ওষুধ সেবনের পাশাপাশি তাদের শীতকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে।