দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত মহিউদ্দিন হাটহাজারী উপজেলার মান্দাকিনি এলাকার এলাহী বক্সের ছেলে। শনিবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
.png)
তিনি জানান, ২০০১ সালের ১ নভেম্বর সকালে জামালখান সড়কের বাসায় বসে সংবাদপত্র পড়ছিলেন নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী। ঐ সময় চট্টগ্রামের কুখ্যাত নাসির গ্যাংয়ের ক্যাডাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পর ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। বিচার কাজ শেষে ২০০৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঐ মামলায় মহিউদ্দিনসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এছাড়া অপর চার আসামি বিচার চলাকালীন সময়ে মারা যান।
পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই চারজনসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোট আটজনের মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অপর দুজনের মধ্যে একজন ইউরোপ ও অন্যজন দুবাইয়ে পলাতক ছিলেন। দুবাইয়ে থাকা মহিউদ্দিন গত বছরের ২৯ অক্টোবর দেশে ফিরে আত্মগোপন করেন। এরপরই তাকে গ্রেফতারে নজরদারি শুরু করে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি র্যাব জানতে পারে, ফের দুবাই পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করছেন মহিউদ্দিন। দুবাই যেতে শনিবার রাতে করোনা টেস্টের জন্য বের হয়ে নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। ঐ সময় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার আরো জানান, নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ১৮ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মহিউদ্দিন। রোববার রাতের ফ্লাইটে ফের দুবাই চলে যাওয়ার কথা ছিল তার।
মহিউদ্দিন এক সময়ের চট্টগ্রামের ত্রাস, কুখ্যাত নাসির গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য এবং গ্যাং লিডার নাসিরের আপন ছোট ভাই। নাসির বর্তমানে কারাগারে আছেন। মহিউদ্দিনকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।