সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
রোহিঙ্গাদের মলমূত্র, ময়লা আবর্জনা ও নানা প্রকার পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মলমূত্রের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, রোহিঙ্গাদের বর্জ্যে নতুন নতুন জমি ও বসতবাড়ি দূষণের কবলে পড়ছে। এছাড়া স্থানীয়দের উপর নানাভাবে নির্যাতন করছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ভয়ে আতঙ্কিত স্থানীয় লোকজন। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন উখিয়া টেকনাফের সাড়ে ৫ লাখ মানুষ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, মানবিক কারণে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এখন পুরো উখিয়াসহ কক্সবাজারের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মলমূত্র ফেলে কবরস্থান করে অথবা প্রতিদিন নতুন নতুন ঘর করে স্থানীয়দের জমি দখল করছে রোহিঙ্গারা। প্রতিনিয়ত অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। আর রোহিঙ্গাদের বিচার কেউ করে না। কোনো অভিযোগও কেউ গ্রহণ করে না।
.png)
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী পানবাজার এলাকার ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো বলেন, আমার মূল পেশা কৃষিকাজ। বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষিকাজ করে সংসার চালাচ্ছি। কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা আসার পর থেকে আমিসহ অনেক স্থানীয় মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে গেছে। এখন তাদের ফেলা বর্জ্য এবং ব্যবহৃত মলমূত্রের দুর্গন্ধে বসবাস করা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে এই অসহনীয় অবস্থা। ঘরে ছেলেমেয়েরা প্রায় সময় অসুস্থ থাকে। বিষয়টি গত সাড়ে ৪ বছরে অন্তত ৫০ বার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এলাকার অধিকাংশ চাষযোগ্য জমি পরিত্যাক্ত হয়ে যেতে পারে যদি রোহিঙ্গা বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিশোধন করা না যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ( বাপা) কক্সবাজার জেলার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিদিন যে পরিমাণ মলমূত্র আবর্জনা পরিত্যাগ করছেন শিগগিরই উখিয়া টেকনাফের ৫০ শতাংশ জমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়বে।