ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নরসিংদীর চরাঞ্চলে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

নরসিংদী প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২০:০৩, ৩০ জানুয়ারি ২০২২
নরসিংদীর চরাঞ্চলে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০
রায়পুরা থানা-ফাইল ফটো

নরসিংদী রায়পুরার বাশঁগাড়ী ও মির্জাচরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নূরুল নামে একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকা দুইটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশসহ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকালে রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল বাশঁগাড়ী ও মির্জাচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের একজন রুবেল মিয়া। তিনি রায়পুরার মির্জাচরের মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি মির্জাচরের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলামের চাচাতো ভাই। 

Advertisement

অপরদিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত নূরুল হক একই উপজেলার বাশঁগাড়ী গ্রামের সাধন মিয়ার ছেলে। তারা দুইজনই নরসিংদী রায়পুরার বাশঁগাড়ী ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুল হকের সমর্থক।

অপর নিহত ব্যক্তি মামুন মিয়া মির্জাচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি মির্জাচর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী সহিংসতার জেরে দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরার বাশঁগাড়ী ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুল হকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন রাতুলের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাদের মধ্যে একাধিকবার হামলা-পাল্টা-হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে। ঐসব হামলায় একাধিক লোক নিহতসহ প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ আহত হয়। 

এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান আশ্রাফুল হক। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন জাকির হোসেন রাতুল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়। 

এদিকে নির্বাচনের দিন ভোর থেকেই কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায় দুইপক্ষ। রাত ৩টার দিকে জাকির হোসেন রাতুল এর সমর্থকরা আশ্রাফুল হকের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। ঐ সময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। পরে নির্বাচনের দিন সকালে রাতুলের দুই সমর্থক ও আশ্রাফুলের এক সমর্থকসহ তিনজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে শতাধিক মানুষ। 

গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন রাতুল বিজয়ী হওয়ার পর এলাকা ছাড়া হয়ে পড়ে আশ্রাফুল হক ও তার সমর্থকরা।

অপরদিকে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরাজয়ের পর মির্জাচর ইউনিয়নের ফারুকুল ইসলাম ও তার সমর্থকরাও গ্রাম ছাড়া হয়ে পড়েন। প্রায় আড়াই মাস গ্রাম ছাড়া থাকার পর বাশঁগাড়ী ও মির্জাচরের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন সম্মিলিত হয়। 

পরে রোববার সকালে প্রথমে তারা আশ্রাফুল হক ও তার সমর্থকদের নিয়ে বাশঁগাড়ী গ্রামে ফেরেন। এতে বাধা দেয় বাশঁগাড়ীর বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল সমর্থকরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সময় একজন গুলিবিদ্ধসহ আরো পাঁচজন আহত হয়।

পরে আশ্রাফুল হক ও তার সমর্থকরা গ্রামে ফেরার পর তাদের সহায়তা নিয়ে মির্জাচর ইউনিয়নের ফারুকুল ইসলামের সমর্থকরা মির্জাচর গ্রামে ফেরার চেষ্টা চালায়। ঐ সময় মির্জাচরের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থকরা বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ফারুকুল ইসলামের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় আরো পাঁচজন।

তাদের মধ্যে মামুন মিয়ার হাত কেটে নেয় প্রতিপক্ষরা। গুরুতর আহতবস্থায় মামুন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভৈরব হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

এদিকে মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থকদের সঙ্গে মামলা সংঘর্ষ ও বাধার মুখে ফারুকুল সমর্থকরা গ্রামে ডুকতে পারেনি। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

মির্জাচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম বলেন, বাশঁগাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুলের লোকজনকে গ্রামে তুলে দিতে মির্জাচর থেকে লোকজন বাশঁগাড়ী যায়। সেখানে তাদের ধাওয়া দিয়ে মির্জাচর পাঠালে বাশঁগাড়ীর রাতুল চেয়ারম্যানের হয়ে মির্জাচরের মানিক চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। ঐ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার চাচাতো ভাই রুবেল মারা যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক বলেন, মূলত বাশঁগাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুল ও মির্জাচরের ফারুকুল ইসলাম এক গ্রুপ। তারা একে অপরকে বরাবরই সহায়তা করে। রোববার আশ্রাফুলের লোকজনকে গ্রামে তুলে দিতে ফারুকুলের লোকজন লাঠিয়াল হিসেবে বাশঁগাড়ী যায়। সেখানে রাতুল চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের বাধা দেয় এবং ধাওয়া দিয়ে মির্জাচর এনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দুইজন নিহত হয়। এর মধ্যে একজন আমার সমর্থক অপরজন ফারুকুলের সমর্থক। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। এই মুহূর্তে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী সহিংসতা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!