ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের বসবাস, ঝুঁকিতে পরিবেশ

ফরহাদ আমিন, টেকনাফ
প্রকাশিত: ১৭:০২, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের বসবাস, ঝুঁকিতে পরিবেশ
পাহাড়ের ঢালে রোহিঙ্গা পরিবারের বসবাস। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় কেটে ঢালুতে বসবাস করছে ১ হাজার ২৬৭টি রোহিঙ্গা পরিবারের অন্তত ছয় সহস্রাধিক সদস্য। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। রোহিঙ্গাদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা যায়, বন বিভাগের পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পানির চাহিদা মেটাতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে ৭৪ লাখ ৭০ হাজার লিটার পানি। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মাটির ভিত্তি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের জন্য সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) না থাকায় দূষিত ও বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউপির একটি স্থানে ৯৯ দশমিক ৮৬ একর এবং অন্য স্থানে ১১২ দশমিক ৫৬ একর জায়গা জুড়ে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে।

Advertisement

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ পাঠান বলেন, রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপনে পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে ৭৫ থেকে ৯০ ডিগ্রি কৌণিক পরিমাপে। বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মাটির শক্ত ভিত্তি নষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পাশাপাশি রোহিঙ্গা বসবাসকারী ঐ দুই এলাকায় পানি প্রবাহের বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পাহাড় ধস হতে পারে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের জন্য নেই সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি)। ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের জন্য গার্বেজ পিট বা ডাম্পিং পিট থাকলেও তা অপরিকল্পিত। এতে পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, টেকনাফে দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ৬ হাজার মানুষ পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসের বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের একটি প্রতিবেদন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে পৌঁছেছে। এসব মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!