শরীয়তপুরের কামরুল হাসান বাপ্পী। তিনি জেলার নড়িয়া উপজেলা মোক্তারেরচর ইউপির মূলপাড়া চেরাগআলি মাদবর কান্দি গ্রামের আবুল বাসার কাজীর ছেলে।
বাপ্পীর বাবা আবুল বাসার কাজী জানান, গত নভেম্বর মাসে কামরুল হাসান বাপ্পী ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে দুবাই যান। পরে সেখান থেকে লিবিয়া যান। লিবিয়া থেকে ২৩ জানুয়ারি ট্রলারে উঠেন ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। দুইদিন পর ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ট্রলারটি উদ্ধার করে। ২৫ জানুয়ারি ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মৃত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে। যার মধ্যে মাদারীপুরের ৫ জনের তালিকায় বাপ্পীর নাম প্রকাশ হয়। তার সঙ্গে কোনো কাগজ পত্র না থাকায় আশেপাশের লোক চিনতে না পাড়ায় তার ঠিকানা মাদারীপুর দেখানো হয়েছে। ইতালিতে বসাবাসরত আত্মীয়স্বজন বাপ্পীর লাশ বলে জানিয়েছে।
.png)
ইতালি দূতাবাস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি ২৮৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালির উদ্দেশে রওনা হন। তাদের মধ্যে ২৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। অভিবাসনপ্রত্যাশী অন্যরা মিসরীয় নাগরিক। ঠান্ডায় হাইপোথামিয়া হয়ে মারা যান সাত বাংলাদেশি। মৃত ব্যাক্তিরা হলেন- মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম পেয়ারপুর এলাকার মো. ইমরান হাওলাদার কালু, বরাইল বাড়ি এলাকার জয় তালুকদার, মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড়া এলাকার জহিরুল ইসলাম শুভ, রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের উমারখালী এলাকার সাফায়েত মোল্লা ও বাপ্পি, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাজ্জাদ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাইফুল।
বাপ্পীর মা লাভলী বাসার বলেন, গত বছরের ৮ নভেম্বর স্থানীয় দালাল নাসির উদ্দিন ব্যাপারীর প্রলোভনে পড়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ছাড়ে বাপ্পী। দুবাই হয়ে লিবিয়ার যান সেখানে একটি বন্দিশালায় কাটান। পরে লিবিয়ায় থাকা সিলেটের পারভেজ নামের এক দালালের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে ২৩ জানুয়ারি রাতে অভিবাসনপ্রত্যাশী ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয় স্বপ্নের দেশ ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের উদ্দেশে। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো কথা হয়নি বাপ্পীর সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘ওরা আমার একমাত্র ছেলেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ইতালি পৌঁছাবে এমন কথা বলে পাঠায়। এখন আমার সব শেষ। ছেলেও নাই কিছু নাই। এখন শুধু চাওয়া বাপ্পীর লাশটি দেখার। সরকারের কাছে একটাই দাবি।’
বাপ্পীর চাচাতো ভাই আনিস কাজী বলেন, ‘ইতালিতে আমার কয়েকজন আত্মীয়স্বজন রয়েছে। তারা জানান, বাপ্পী নামে যে নাম প্রকাশ করা হয়েছে সে আমার ভাই। সরকার যদি আমাদের বাপ্পীকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয় তাহলে ভাইকে দাফন করাতে পারবো। আমরা চাই ভুলটি সংশোধন করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হওক।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ রাসেদুজ্জামান বলেন, কামরুল হাসান বাপ্পী নামের যে ছেলে ইতালিতে মারা গেছে তার বাড়ি মাদারীপুর দেখানো হয়েছে। তবে নড়িয়ার একটি পরিবারের আবেদন আমরা পেয়েছি। লাশটি আসার পর শনাক্ত করা হবে। পরে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।