ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাত জেগে পাহারা

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাত জেগে পাহারা
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাত জেগে পাহারা

পাড়া-পড়শির ঘুম নেই এবং রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পালাক্রমে পাহারা বসিয়ে রাত পার করছেন স্থানীয়রা।

কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ডাকাতির বার্তা পাঠিয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকার বাসিন্দারা। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জাদিমুড়া এলাকায় ডাকাতের ভয়ে স্থানীয় মেম্বারসহ গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের মানুষ এখন রাতে ঘুমাতে ভয় পান। উখিয়া-টেকনাফের মানুষ এখন খুবই ভয়ের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।

গত ৩০ জুন ভোরে জাদিমুড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব উল্লার পরিবারের ওপর গুলি চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাসেম উল্লাহ গ্রুপ। এ সময় হাবিবের পরিবারের তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। ঐদিন টেকনাফ থানায় হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলার অন্যতম আসামি জাদিমুড়া ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা মৃত বশরের ছেলে ফজল হক (৫০) ও একই ক্যাম্পের মোহাম্মদ জামালের স্ত্রী হামিদা খাতুন (২৫)। তাদের গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

Advertisement

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, স্থানীয় তিন বাসিন্দার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কোনো অপরাধী ছাড় পাবেনা। ক্যাম্প এলাকায় আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি রোহিঙ্গা ডাকাতরা বড় বড় ইয়াবার গডফাদার। তারা মূলত ইয়াবার চালান খালাস করতেই ডাকাতের রূপধারণ করেছে এবং বিভিন্ন সময় অপহরণ করেও মুক্তিপণ আদায় করছে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ডাকাতরা স্থানীয়দের চিঠির মাধ্যমে খবর দেয় যে, জাদিমুড়া এলাকায় ডাকাতি হবে। এমন বার্তায় আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন হ্নীলা এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সংবাদকর্মী এহসান জানান, এখানে স্থানীয় মেম্বার, গ্রাম পুলিশ ও সাধারণ মানুষ রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন রোহিঙ্গা ডাকাতদের ভয়ে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উখিয়া-টেকনাফের মানুষ ইয়াবা, সন্ত্রাস এবং সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের থেকে বাঁচতে চায়।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সন্জুর মোর্শেদ বলেন, ক্যাম্পের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ান। তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে অবশ্যই আমরা তাদের সঙ্গে যুক্ত হবো। 

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। ফলে অপরাধ করে কেউ পার পাবার সুযোগ নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!