শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার কয়ড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর তার স্বামী পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৩১ জুন কয়ড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে জয় আকতার জনি পালিয়ে মিতুকে বিয়ে করেন। তবে মাদকাসক্ত জনি কোনও কাজকর্ম না করায় তার সঙ্গে মিতুর কলহের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি ব্যবসা করার জন্য বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য মিতুকে মানসিক নির্যাতন করতেন জনি।
.png)
গত শুক্রবার দুপুরে বিয়ের পর প্রথম মিতুর মাসহ স্বজনেরা তাকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি আসেন। পরে তারা মিতুকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে জনি ও তার মা-বাবা অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে জনি ও মিতুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হওয়ার পর মিতুর স্বজনেরা চলে যান।
আজ বেলা ১২ টার দিকে ঘরের ভেতর আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে মিতু ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মিতুর চাচা বজলু মিয়া বলেন, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় স্বজনেরা কেউ মিতুকে দেখতে যায়নি। এটা নিয়ে ভাতিজি কিছুটা মানসিকভাবে কষ্টে ছিলেন। এরপর ব্যবসার কথা বলে এক লাখ টাকার দাবিতে মিতুকে তার স্বামী নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার ভাতিজি আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, জনি মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। এর আগে মারামারি ঘটনায় জনির বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করলে সহযোগীদের নিয়ে তাকে মারধর করেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় সালিস বসার কথা ছিল।
শনিবার বিকেল এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়ড়া গ্রামে জনির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ওসি আবদুর রউফ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। এ ব্যাপারে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।