মঙ্গলবার চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শহিদুল ইসলাম খোকন ও ইসমাইল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন- আবু, কামাল, জসিম, তোতা মিয়া, নাছির ও সুমন। এর মধ্যে শহিদুল ইসলাম খোকন বাদে বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
.png)
মামলা থেকে খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন- জাহাঙ্গীর, রমিজ উদ্দিন রঞ্জু, আজিম, নাজিম ও শাহাব উদ্দিন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, মামলার রায়ে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। খালাস পাওয়া পাঁচজনের বিষয়ে আপিল করা হবে কিনা তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে চিন্তা করে দেখব।
তিনি বলেন, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হায়দার আলী আকন্দ তার প্রতিবেদনে প্রধান দুই আসামিকে বাদ দিয়েছিলেন। এমনকি আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেননি। বাদী বিদেশে থাকায় তার ভাই নারাজি আবেদন করেন। এরপর সিআইডি তদন্ত করে আবার সম্পূরক চার্জশিট দেয়। রায়ে সেই দুই আসামির সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।
২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় জিল্লুর ভাণ্ডারিকে মারধরের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন। পরে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি।
২০১৯ সালের ২৮ মে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত। মামলার অভিযোগপত্রে মোট ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘটনার তিন মাস আগে জিল্লুর ভাণ্ডারির ভাই জিয়াউদ্দিন বাবলুকে স্পন্সর হিসেবে কাতারে নেন ইসমাইলের ভাই মোহাম্মদ জব্বার। কিন্তু ভিসা নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে বাবলুর সঙ্গে জব্বারের কথা কাটাকাটি হয়। ওই অবস্থায় স্পন্সরশিপ বাতিল করে বাবলুকে দেশে পাঠিয়ে দেন জব্বার।
২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি রাতে ইসমাইলকে রানিরহাট বাজারে পেয়ে জিল্লুর ভাণ্ডারি তার ছোট ভাইকে দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ জানতে চান। একই সঙ্গে স্পন্সরশিপের জন্য দেওয়া দুই লাখ ৫০ হাজার টাকাও ফেরত চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে পরদিন রাতে জিল্লুরকে একা পেয়ে মারধর ও পায়ে গুলি করা হয়। আহত জিল্লুরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।