ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নড়বড়ে সাঁকো, পড়তে হয় দোয়া-দরুদ

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১২:৩০, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
নড়বড়ে সাঁকো, পড়তে হয় দোয়া-দরুদ
নড়বড়ে সাঁকো

বাঁচতে হলে আমাদের অনেক সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়। চলার পথেও আসে বহু বাধা। তবু এগোতে হয় সামনের দিকে। তেমনই কষ্ট নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে নড়বড়ে সাঁকো বেয়ে চলেছেন চার শতাধিক মানুষ। ঝুঁকি জেনেও দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন তারা। নড়বড়ে সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেকে আবার দোয়া-দরুদ পড়েও পার হন এ সাঁকো।

সাঁকোটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও ভাগ্য খোলেনি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক বাসিন্দার। সাঁকোটি একই ইউনিয়নের মতিরহাট সংলগ্ন জয়বাংলা খালের ওপর অবস্থিত।

স্থানীয়রা জানায়, নড়বড়ে একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন প্রায় চার শতাধিক বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিশু ও নারী-পুরুষ। সাঁকোটি মেরামতে এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধিরা। ফলে স্থানীয়রা নিজেদের প্রচেষ্টায় মাঝে মধ্যে মেরামত করে কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী করে রাখছেন। 

ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

উপজেলা প্রশাসন কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সাঁকোটি পূর্ণাঙ্গ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা। আর স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানে একটি সেতু নির্মাণেরও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, উপজেলার মতিরহাট সংলগ্ন চরকালকিনি জয় বাংলা খালের দক্ষিণ পাশে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের চার শতাধিক লোকের বসবাস। এলাকাটি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। বাসিন্দারা বর্দারিয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। রাস্তার উত্তর অংশে মেঘনা নদীর সংযোগ খাল। জয় বাংলা খালের ওপর তিন বছর আগে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে একশ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। এক বছরের মাথায় মেঘনা নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের তোড়ে সাঁকোটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া খালটি বেশ কয়েক ধাপে ভাঙছে। এখন ১২০ দৈর্ঘ্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিধ্বস্ত সাঁকোটি ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে কোনোভাবে মেরামত করি। কিন্তু সাঁকোটি এখনো নড়বড়ে। ৫০ হাজার টাকা হলে পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব। এ এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ জেলে ও কৃষক। তাদের পক্ষে ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাঁকোটি মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি।

সাঁকো দিয়ে চলাচলকারী এক বৃদ্ধা নারী বলেন, দোয়া-দরুদ পড়ে সাঁকোতে উঠি। সাঁকো পার হতে অনেক কষ্ট হয়। যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকি।

সাঁকোটির স্থায়ী মেরামত চান ভুক্তভোগীরা

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, খালের ওপরে থাকা সাঁকো নড়বড়ে এবং রাস্তাটিও ভাঙাচোরা। আগে রাস্তা মেরামত করা হবে। পরে সাঁকো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছয়েফ উল্যাহ বলেন, স্থানীয়রা তাদের অর্থায়নে সাঁকোটি মেরামত করে কোনোভাবে চলাচল করছে। পরিষদের বড় কোনো বাজেট না থাকায় বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে যেন একটি সেতুর বরাদ্দ দেয়, সে বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বিজয় বলেন, স্থানীয়দের ব্যক্তি উদ্যোগে তিন বছর আগে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে এর বর্তমান অবস্থা নাজুক। এখানে যেন একটা সেতু হয়, সে বিষয় সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!