বুধবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) খন্দকার ফজলে রাব্বী।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত হান্নান গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। অটোরিকশা চালিয়ে পুরো সংসারের ব্যয়ভার জোগানো কঠিন হয়ে উঠেছিল তার পক্ষে। সেজন্য হান্নান তার স্ত্রী রুনা বেগমকে পোশাক কারখানায় চাকরি পাইয়ে দেন। সেই কারখানায় রুনার সঙ্গে কাজ করতেন নিহত সাজিদের বড় ভাই রবিউল আওয়াল শুভ। একই কারখানায় কাজের সুবাদে রুনার এলাকায় বাসা ভাড়া নেন শুভ। এক পর্যায়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুইজনের। যার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মাস আগে সন্তানদের স্বামীর ঘরে ফেলে রেখে শুভর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন রুনা।
.png)
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, ২০ বছরের সংসার জীবনের অনাকাঙ্খিত ভাঙনের পর প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠেন হান্নান। সেই আক্রোশ থেকেই শুভ বা তার পরিবারের কাউকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা মোতাবেক হান্নান তার মামাতো ভাই আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নান্দাইল আসেন। গত ২৬ মার্চ রাত ১টার দিকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে সাজিদের ঘরে ঢুকে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন তারা।
জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরদিন নিহতের মা এসমিন আক্তার একটি হত্যা মামলা করেন। সেই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। এরপর তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত দুইজনকে মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।