ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নতুনদের নিয়ে বাণিজ্যে মেতেছে পুরোনো রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ১ মে ২০২২
নতুনদের নিয়ে বাণিজ্যে মেতেছে পুরোনো রোহিঙ্গারা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প- ফাইল ছবি

নতুন সাধারণ রোহিঙ্গাদের নাম ভাঙিয়ে বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে পুরোনো রোহিঙ্গা গোষ্ঠী।

দুষ্কৃতকারী ঐ সব রোহিঙ্গাদের ইন্ধনে প্রত্যাবাসন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ নিয়ে আসছে পুরোনো রোহিঙ্গারা। এর কিছু অংশ রোহিঙ্গাদের মধ্যে বণ্টন করে ভিডিও ফুটেজ পাঠানো হয় দাতা সংস্থার কাছে।

Advertisement

রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে আসা সাহায্যের সিংহভাগ আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে অনেক পুরোনো রোহিঙ্গা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া সাধারণ রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সংস্থা থেকে বর্তমানে ত্রাণ হিসেবে যা পাচ্ছে, পুরোনো রোহিঙ্গা নেতারা তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি বিদেশি ফান্ড হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে প্রত্যাবাসনবিরোধী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে পুরোনো এসব রোহিঙ্গা। আবার কিছু সংখ্যক এনজিও-আইএনজিও থেকেও ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুট করছে এক শ্রেণির পুরোনো রোহিঙ্গা গোষ্ঠী।

সূত্র জানায়, পুরোনো রোহিঙ্গা নেতা ইদ্রিছ জিহাদি, শায়খ ছালামত উল্লাহ, নুর কামাল ওরফে কামাল হোসেন, আয়াছ, রুহুল আমিন, হাফেজ হাসিম, হাফেজ ছলাহুল ইসলাম, ডাক্তার আয়ুব, নুর হোসাইন, এনায়েত ও আবু সিদ্দিক আরমানসহ প্রায় ১৫ হাজার পুরোনো রোহিঙ্গা ভুয়া এনআইডি বানিয়ে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করছে। তারা রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইছে। এসব রোহিঙ্গার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের একাধিক স্থানে জমিজমা ও প্লট রয়েছে।

পাহাড়তলীতে জমি কিনে বাড়ি করেছে রোহিঙ্গা শফিক। পরে সে পাহাড়তলী ছেড়ে চলে যায় শহরের চৌধুরী পাড়ায়। সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে জমি কিনে দুটি আলিশান বাড়ি করেছে।

জানা গেছে, নতুন রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে পুরোনো রোহিঙ্গারা। নতুন রোহিঙ্গারা নিকট আত্মীয় হিসেবে শহরে থাকা পুরোনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পুরোনো রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ক্যাম্পে এরই মধ্যে গঠন করেছে আল-ইয়াকিনের কমিটি। এক সময় নাশকতা মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেছে শফিক, শাইখ ছালামত উল্লাহ, আয়াছ ও হাফেজ ছলাহুল ইসলাম। তাই ঝামেলা এড়াতে তারা নিজেদের আড়াল রেখে চলাফেরা করছে।

স্থানীয়রা জানায়, অনেক রোহিঙ্গা নেতা এখানে বাড়ি করে নানা অপকর্ম করছে। ভুয়া এনআইডিধারী রোহিঙ্গাদের এখনই লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তারা।

সচেতন নাগরিকদের অভিমত, ভবিষ্যতে এসব রোহিঙ্গার ইন্ধনে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি এবং উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!