মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় ঈদের একমাত্র জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে সকল সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে । এছাড়াও মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশের জন্য ১৯টি প্রবেশ গেট তৈরি করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগ থেকেই সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিনারে সংস্কার কাজ, রং করা ধোয়া মোছা, মাঠে মাটি ভরাটসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে নেয়া হয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ। এ ছাড়াও ঈদের নামাজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
.png)
এরই মধ্যে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণের টাওয়ার। মাঠের আরেকটি অংশে ঘের দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের গ্যারেজ। এ ছাড়াও পাশের স্টেশন ক্লাব, সার্কিট হাউজ, শিশু একাডেমি ও জেলা গণগ্রন্থাগারেও যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রবেশের জন্য মাঠের চারপাশে তৈরি করা হচ্ছে তোরণ। শহরের প্রবেশমুখগুলোতে এবং মিনারে যাওয়ার রাস্তাতেও তৈরি হচ্ছে তোরণ। মুসুল্লিদের জন্য মাঠে অজুখানা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি থাকবে জেনারেটর।
একই সঙ্গে শতাধিক মাইক যোগ করা হয়েছে। এছাড়াও ৩ শতাধিক মুসল্লি এক সাথে ওজু করাতে পারবেন এমন ব্যবস্থাও রয়েছে ।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে ২০১৫ সালে এ ঈদগাহের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর এটি নামাজের জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়। এ ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, দুটি মিনার ৫০ ফুট এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এসব মিনার আর গম্বুজের প্রস্থ হলো ৫১৬ ফুট। দেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ ঈদগাহ মিনারটি। প্রতিটি গম্বুজে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ। মিনার দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট, যে মেহরাবে খতিব বয়ান করবেন, সেটির উচ্চতা ৫০ ফুট। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দুটির উচ্চতা ৩০ ফুট।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহের চারপাশে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সক্রিয় থাকবেন সাদা পোশাকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা। এ ছাড়া মাঠের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত হয়েছে চারটি বড় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে শহরজুড়ে। যাতে করে দূরদূরান্ত থেকে আসা যানবাহনগুলো শহরে প্রবেশ করতে ও বাহির হতে কোনো সমস্যা না হয়।