ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ডা. সুমনাকে বাবা-মা ও বোনসহ গ্রেফতারের নির্দেশ

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ২৫ মে ২০২২
ডা. সুমনাকে বাবা-মা ও বোনসহ গ্রেফতারের নির্দেশ
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল- ফাইল ছবি

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সুমনা সরকার, তার বোন সাগরিকা সরকার ও তাদের বাবা-মাসহ পাঁচজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলজার রহমান নাটোর সদর থানার ওসিকে এ আদেশ দেন। আদালত চলাকালে বিচারক এজলাসে বসেই মোবাইলে ওসিকে এ নির্দেশ দেন।

নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর নাটোর জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অজিত কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে ডা. সুমনা সরকারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাড়ির সীমানা দেয়াল ভেঙে ফেলে মৃত্যু ঘটানোর প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার দুই দফা তদন্ত হয়। 

Advertisement

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত মামলার আসামি নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সুমনা সরকার, তার বোন একই হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক (বর্তমানে ফরিদপুরের নাগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত) ডা. সাগরিকা সরকার, তাদের মা করুণা রানী সরকার, বাবা সুনিতী রঞ্জন সরকার ও তাদের সহযোগী মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। 

গত ২০ এপ্রিল আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা নাটোরের পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়। কিন্তু সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করেনি। গত ২০ মে মামলার বাদী থানায় গিয়ে ওসিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ করে আসেন। তবু আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি।

বুধবার মামলার ধার্য্য তারিখে আদালতে বাদীর আইনজীবী জানান, আসামি ডা. সুমনা সরকার ও ডা. সাগরিকা সরকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। তারা নাটোর সদর থানা ভবনের অদূরেই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ শহরেই তারা বসবাস করেন। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। বাদীপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক এজলাসে বসেই নাটোর সদর থানার ওসিকে ফোন দেন।

বিচারক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় এ ব্যাপারে আদেশের অনুলিপি ডিআইজি ও আইজিপি বরাবর পাঠানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন তালুকদার টগরসহ বাদীর আইনজীবীদের নাটোরের পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পরামর্শ দেন। 

বাদীর নিযুক্ত আইনজীবী আলী আজগর জানান, আসামিরা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় হয়তো পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে বিলম্ব করছেন। আমরা বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছি। আদালত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। আদালতের কার্যকর পদক্ষেপে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। 

নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহমেদ জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার জন্য এসআই শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আদেশ কার্যকর করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!