সেই থেকে বাবার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাসেমের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে সালমা আক্তার। আর বলছে, ‘বাবা মাকে বলেছিল দুই ঘণ্টা পর আসবে। কিন্তু বাবা এখনো এলো না। এই দুই ঘণ্টা কখন শেষ হবে? আপনারা আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন। আমাদের আর কেউ নাই।’ কিন্তু আদৌ কী শেষ হবে সেই দুই ঘণ্টা? ফিরে আসবেন কী তার বাবা? সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো জানা নেই কারো।
মঙ্গলবার বিকেলে হাসেমের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মেয়ে ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে আকাশ-বাতাস। আশপাশের অনেকে এসে দিচ্ছেন সান্ত্বনা।
.png)
স্বজনরা জানান, ঘটনার পর থেকেই বাবার জন্য অনবরত কেঁদে চলেছে বড় মেয়ে সালমা আক্তার। ৮ বছর বয়সী আরো এক মেয়ে ও ৬ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে হাসেমের। বড় মেয়ে সালমা সবকিছু বুঝলেও ছোট দুই সন্তান এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না কিছুই। তবে বড় বোন ও মাকে কাঁদতে দেখে কাঁদছে তারাও।
হাসেমের মামাতো ভাই জানান, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কনটেইনার নিয়ে আসেন হাসেম। কথা ছিল পরদিন সকালে কনটেইনারটি আনলোড করা হবে। সে হিসাবে সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করিয়েও সেদিন কনটেইনারটি আনলোড করেনি ডিপো কর্তৃপক্ষ। পরে রাত ১০টায় আনলোড করা হবে বলে জানানো হলে বাড়িতে ফোন করে দুই ঘণ্টা পর ফিরবেন বলে জানান হাসেম।
শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ডিপো থেকে আরো দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪৩। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।