এর আগে, একইদিন পরিদর্শক মাসুদ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অলকানন্দ দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
.png)
আদালত সূত্র জানায়, পিবিআই পরিদর্শক মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ ২৬ মে উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় দুই সপ্তাহের জামিন পান। বুধবার ছিল জামিনের মেয়াদের শেষ দিন। এ কারণে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে ফের জামিনের আবেদন করেন মাসুদ। পরে শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানে।
গত ১৫ মে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পিবিআই পরিদর্শক মঞ্জুরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে খুলনা মহানগরীর ছোট মির্জাপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। ঐদিন দুপুরে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীকে নিয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।
ঐ ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ৫ দিন আগে পিবিআই পরিদর্শক মাসুদের কাছে একটি বিষয় নিয়ে আসেন। তাকে সহযোগিতা করার কথা বলে ১৫ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছোট মির্জাপুরের কাগজী হাউজের অফিসে নিয়ে ধর্ষণ করেন মাসুদ। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঐ অফিসের তালা ভেঙে অভিযান চালানো হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঐ কলেজছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষার পর ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়। ৩১ মে ঐ ছাত্রী খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, পিবিআই পরিদর্শক মাসুদ ইউটিউব চ্যানেলে গান বাজনা করেন। সেখান থেকে মাসুদের নম্বর সংগ্রহ করেন তিনি।
১০ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফোনে সমস্যার কথা বললে মাসুদ তাকে পিবিআই অফিসে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে মাসুদ তার ফোনের সবকিছু দেখে ব্যস্ত আছে বলে তাকে পরে দেখা করতে বলেন। পরে মাসুদ তাকে ফোন করে একটি ইমো একাউন্ট খোলার কথা বলেন। ইমোতে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। প্রতিদিন তার সঙ্গে পাঁচবার কথা বলতেন মাসুদ। ১৩ মে কল দিয়ে জানান তিনি ঢাকা যাচ্ছেন। ১৪ মে মাসুদ ফের কল দিয়ে তাকে পরেরদিন দেখা করতে বলেন।
১৫ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইমোতে কল দিয়ে মাসুদ তাকে ধর্মসভা মন্দিরের সামনে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তাকে বলা হয় সাইবার ক্রাইম অফিসে যেতে হবে। এরপর ধর্মসভা মন্দির থেকে মোটরসাইকেলে তাকে ছোট মির্জাপুরের একটি অফিসে নিয়ে যান। রুমের ভেতর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিচিত এক ব্যক্তি অফিসের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর মাসুদ তাকে ধর্ষণ করেন এবং ঐ ঘটনা কাউকে কিছু জানালে হত্যার হুমকি দেন।