এর আগে, মঙ্গলবার ভোরে আনোয়ারা উপজেলার মোহছেন আউলিয়া মাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে চন্দনাইশ থেকে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- নগরের চান্দগাঁও থানার ফুরি দোকান কেন্দ্রীয় মসজিদ সফি হাজীর বিল্ডিংয়ের মো. সফির ছেলে মো. গোলাম কাদের ওরফে হৃদয় ও আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকার নূরনবী চেয়ারম্যানের বাড়ির মো. আবু তাহেরের ছেলে মো. সাকিব।
.png)
ডিসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেফতার সাকিবের সঙ্গে এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই কিশোরীর সঙ্গে নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় রিকাতের। এরপর থেকে সাকিব ও রিকাতের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের কারণে ফেসবুকে নানা স্ট্যাটাস দেন রিকাত। এর জেরে সোমবার বিকেলে ঘাটকূল এলাকায় রিকাতকে ডেকে নেন হৃদয়। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে পিঠে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
বাকলিয়া থানার ওসি আব্দুর রহিম বলেন, রিকাতেরসহ তারা সবাই টিকটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মূলত সেখান থেকেই সাকিবের সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেই কিশোরীর সঙ্গে নতুন করে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান রিকাত। তাদের মধ্যে ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারে কথা হতো। যার কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিকাতকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়।
ওসি আরো বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে চন্দনাইশ থেকে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। সাকিবের বিরুদ্ধে চাঁন্দগাও থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। এ খুনের ঘটনায় রিকাতের বাবার করা মামলায় দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া খুনের সঙ্গে জড়িত আরো তিনজন এখনো পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার বিকেলে বাকলিয়া থানার বলিরহাট ঘাটকুল এলাকায় রিকাতকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রিকাত কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান এলাকার মো. শরীফের ছেলে। বর্তমানে চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের কমিশনার গলিতে ভাড়া বাসায় থাকে তার পরিবার।