কঙ্কালের সূত্রে বেরিয়ে এলো ৬ বছর আগের হত্যাকাণ্ডের রহস্য
সাড়ে সাত মাস আগে উদ্ধার করা হয় কঙ্কাল। সেই সূত্র ধরে ছয় বছর আগের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
হত্যার শিকার যুবকের নাম রাজীব হোসেন কাজী। ছয় বছর আগে তাকে খুন করে লাশ ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয় পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় মোহাম্মদ সালাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মোহাম্মদ সালাম নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মঙ্গলহাটা গ্রামের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জিয়াউর রহমান।
.png)
এ বিষয়ে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, গত ৩০ মে যশোর পৌর শহরের পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়ায় একটি বাউন্ডারি ঘেরা জায়গায় ভবন নির্মাণের জন্য খননকাজ চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ থেকে জানা যায় ২০১৬ সালে পুরাতন কসবা থেকে রাজীব হোসেন কাজী নামে এক যুবক নিখোঁজ হন। তিনি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দোলি মহল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। রাজীব যশোরে তার চাচা হাসমতের বাড়িতে থেকে চাকরি করতেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, রাজীব ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ রাতে তার বাবাকে ফোন করে তাদের খুলনার বাড়িতে আসছেন বলে জানান। তবে রাজীব খুলনার বাড়িতে যাননি। তার বাবা ফারুক হোসেন রাজীবের মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পান। তিনি ভাই হাসমতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসমত জানান, রাজীবকে তারাও পাচ্ছেন না। এরপর তারা আর রাজীবের সন্ধান পাননি।
গত ৩০ মে রাতে ড্রামে কঙ্কাল উদ্ধারের খবর পায় রাজীবের পরিবার। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কঙ্কালগুলো রাজীবের বলে শনাক্ত হয়। ফারুক হোসেন এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় মোহাম্মদ সালামকে গ্রেফতার করা হয়।
সালাম জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, রাজীবের লাশ ড্রামে ভরে রিকশায় নিয়ে পুরাতন কসবা নিরিবিলি পাড়া এলাকার একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালালের আদালতে জবানবন্দি দেন সালাম। এছাড়া লাশ বহনের কাজে ব্যবহৃত রিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।