ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রংপুরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর
প্রকাশিত: ২০:১৮, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
রংপুরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন
রংপুরে উৎপাদন হচ্ছে দুধ, ডিম, মাংস ও মাছ।

সরকারি সহযোগিতা পেলে রংপুর হয়ে উঠতে পারে প্রাণিজ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বছরে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যা সরবরাহ হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। আর এর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ লাখ মানুষ। তবে সাম্প্রতিক পশুখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

ডেইরি ফার্মাস এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, ডেইরি বোর্ড গঠন এবং পশুখাদ্য উৎপাদনে সরকারি ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হলে এই শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়বে কয়েক লাখ মানুষের।

চার বছর ধরে সংসারের কাজের পাশাপাশি ৫টি গাভি লালনপালন করছেন রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার রহিম উদ্দিন। গাভি থেকে প্রতিদিন দুধ হয় ২০ লিটার।

Advertisement

তিনি জানান, সংসারে কিছু অর্থের জোগান দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও নিজের চাহিদাও মিটাচ্ছেন এই আয় থেকে। প্রাণিসম্পদ বিভাগে তালিকা না থাকলেও দেশে এমন পারিবারিক খামার থেকে আসে বড় দুধ, ডিম ও মাংসের জোগান। 

গত ৬ বছর ধরে ২০টি গরু নিয়ে খামার করেছেন ফিরোজ প্রধান। প্রতিদিন তার খামার থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪৮ লিটার দুধ। গরু মোটা তাজাকরণের মাধ্যমে জোগান দিচ্ছেন মাংসেরও। সম্প্রতি পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় কিছুটা সংকটে পড়েছেন তিনি।

খামারিরা জানান, গেল তিন মাসে খাবারের দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুন। ৫৫ টাকার এক কেজি সয়াবিন খৈল এখন ৭৫ টাকা, ১৭ টাকা বেড়ে গমের ভূষি ৬২ টাকা, মসুর ভূষি ৩৪ টাকা থেকে ৪২ টাকা, ফিড ৩ টাকা আর ভুট্টা কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা। প্রতি বছর বিভাগের উৎপাদন হচ্ছে ১১ লাখ টন দুধ, ১০ লাখ টন মাংস এবং ডিম উৎপাদনের পরিমাণ ২৪৮ কোটি পিসের বেশি। গাভির সংখ্যা ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৩১৬টি। দুধ উৎপাদন ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিকটন। গরু, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, মহিষ থেকে মাংস উৎপাদন হয় ১০ লাখ ২১১ মেট্রিকটন। মুরগি ও হাঁস (৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩২১টি। ডিম উৎপাদন হয় ২৪ কোটি ৮ লাখ ৮ হাজার ৯৪৬ পিস। 

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাংস, দুধ ও ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে সারাদেশে। একইসঙ্গে খামারিদের সব ধরনের সহায়তায় পাশে রয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জোবাইদুল কবীর জানান, দুধ, ডিম ও মাংস রংপুর বিভাগের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সেই দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে রংপুর বিভাগ অনেকটা এগিয়ে আছে। এই শিল্পে বিভাগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষের।

সে কারণেই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার মতো পশুখাদ্য উৎপাদনে সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়ার দাবি খামারিদের।

রংপুর ডেইরি ফার্মাস এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসিফুল ইসলাম জানান, সরকার যদি সিরাজগঞ্জ জেলার মতো খামারিদের ঘাস ও ভুট্টা উৎপাদনের জন্য জমি লিজ দেয় তা হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো। কিন্তু সরকার আমাদের আজ পর্যন্ত কোনো জমি লিজ দেয়নি।

তিনি আরো জানান, আর সরকারকে দ্রুত ডেইরি বোর্ড গঠন করতে হবে। তা হলে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে দুধ, মাংস এবং ডিমের মূল্য নির্ধারণ করা গেলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। তাদের মতে এই অঞ্চলকে ডেইরি-জোন ঘোষণা করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে আরো বেশি উদ্যোক্তা যেমন তৈরি হবে একইসঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্থানও।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: রংপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!