শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার হাজীর পোল এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
গ্রেফতারকৃত রিয়াদ বিন সেলিম পটিয়া পৌর শহরের পাইকপাড়া এলাকার মো. সেলিম উদ্দীনের ছেলে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে হাজীর পোল এলাকায় থাকেন তিনি।
.png)
র্যাব জানায়, রিয়াদ বিন সেলিমের প্রধান কাজই ছিল সরকারি কর্মকর্তা কিংবা শীর্ষ কোনো কোম্পানির কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা করা। তিনি পেশায় মূলত একজন গাড়িচালক। ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে চাকরি করার সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিতেন তিনি। একপর্যায়ে সেটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
এরপর নিজেকে ডিবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা শুরু করেন। এর পাশাপাশি নিজেকে কখনো ইঞ্জিনিয়ার, কখনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক, কখনো বড় গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা, আবার কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হিসবে পরিচয় দিতেন।
এসব পরিচয় একাধিকবার ব্যবহার করে ফেলায় সবশেষে রিয়াদের শখ জাগে র্যাব কর্মকর্তা হওয়ার। সে লক্ষ্যে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে র্যাবের মনোগ্রাম যুক্ত করেন এবং র্যাবের নম্বরের (০১৭৭৭) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নম্বর সংগ্রহ করেন, যেন কেউ দেখলে র্যাবের সরকারি নম্বর মনে করেন। নম্বরটি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কল করে ওয়ারেন্ট ও মামলার কথা বলে টাকা দাবি করতেন রিয়াদ। সর্বশেষ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে র্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা করেন।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার জানান, সম্প্রতি আবু সুফিয়ান নামে একজনকে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার হুমকি দেন রিয়াদ। এ বিষয়ে আবু সুফিয়ানের অভিযোগ পেয়ে রিয়াদকে ধরতে নজরদারি শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার হাজীর পোল এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ভুয়া পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন আলামত ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
নুরুল আবছার আরো জানান, র্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য অর্ডার করে তা বিনামূল্যে নেয়ার চেষ্টা করতেন রিয়াদ। তিনি বিবাহিত ও সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অগোচরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার বিরুদ্ধে নগরের চকবাজার থানায় নারী নির্যাতনের মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।